পাট রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা এগোচ্ছে। গত কয়েক বছরে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার চাপ কাটাতে ২০৩১ সালের মধ্যে আয় বাড়িয়ে বাজার জোরদার করাই এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু।
৫ বছরে খাত ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাট অধিদপ্তর “বাংলাদেশ পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩১)” শীর্ষক একটি খসড়া তৈরি করেছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে নতুন করে গতি আনতে সরকারের পথনকশা সাজানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় অংশীজনদের সঙ্গে খসড়াটি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক হওয়ার কথা। মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সংস্করণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা আছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে যাবে।
২০৩১ সালে রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো—পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির আয় ২০৩১ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করা। বর্তমানে বার্ষিক রপ্তানি আয় ধরা হয়েছে ৮২ কোটি মার্কিন ডলার। আগামী সময়ে সেটি ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায় সরকার।
এদিকে কাঁচা পাটের উৎপাদন বাড়ানোর কথাও আছে। ১১৫ থেকে ১২০ লাখ বেল কাঙ্ক্ষিত ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পাটবীজের চাহিদা বড় অংশ পূরণ এবং উচ্চমূল্যের পাটপণ্যে মূল্য সংযোজন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
যেখানে বিনিয়োগ লাগবে
খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে দেশে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পরীক্ষাগার স্থাপন এবং পাট খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
রপ্তানিমুখী উন্নয়নের জন্য মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতার জায়গাটা শক্ত করার চেষ্টা এই কর্মপরিকল্পনায় দেখা যাচ্ছে।
কেন কমেছে রপ্তানি: খসড়ার পর্যবেক্ষণ
খসড়ায় বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজিত পণ্যের স্বল্পতা, সীমিত বাজার, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং ভারতের আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক—রপ্তানি কমার পেছনে এসব বিষয় ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়া ২৬৬টি পাটকলের মধ্যে ৭৩টি বন্ধ থাকা, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারের অভাব এবং পাট অধিদপ্তরে শূন্য পদকে খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বাজার নির্ভরতার কথাও উঠে এসেছে—মোট রপ্তানির বড় অংশ তুরস্ক, চীন ও ভারতের ওপর নির্ভরশীল। তাই নতুন বাজার সম্প্রসারণ ও উচ্চমূল্যের পণ্যের দিকে ঝুঁকতে চায় সরকার।
প্রবাসীদের জন্য এর অর্থ কী
পাট রপ্তানি জোরালো হলে শুধু রপ্তানি আয়ের হিসাবই বদলায় না, কর্মসংস্থান ও কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশে বসেও দেশের শিল্পচর্চা-নির্ভর চাকরি ও ব্যবসার গতি কেমন—সেটা সরাসরি টের পান।
সংক্ষেপে ৩টি প্রশ্ন
১) পাট রপ্তানি দ্বিগুণ লক্ষ্যটা কবে পর্যন্ত? ২০৩১ সালের মধ্যে।
২) বর্তমান আয় কত ধরা হয়েছে? বার্ষিক ৮২ কোটি মার্কিন ডলার।
৩) খসড়া নিয়ে বৈঠক কোথায় হচ্ছে? ঢাকায় অংশীজনদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক হবে আজ।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









