বাংলাদেশের রফতানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত হতে পারে হালাল পণ্য। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি স্বতন্ত্র ‘বাংলাদেশ হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠন, আন্তর্জাতিক মানের হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল তৈরির সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)।
হালাল পণ্যের স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে এসব সুপারিশসহ একটি নীতিমালা সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংগঠনটি। ‘হালাল পণ্য বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত (Halal for Export Diversification)’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিসিআই।
সংগঠনটি জানায়, হালাল পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে বিসিআই গত কয়েক বছর ধরে কাজ করছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নির্ধারণে গত ১৭ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হয়। পরে ১৮ জুলাই সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা করে বিসিআই। এসব আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হালাল পণ্যের বিকাশে অনুকূল পরিবেশ তৈরি, আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি ও শরিয়া মানদণ্ড অনুসরণ এবং হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হালাল পণ্যের রফতানি বাড়াতে কৌশল নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের অবস্থান সুদৃঢ় করতে একটি একক ও স্বতন্ত্র ‘বাংলাদেশ হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিসিআই জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সভায় হালাল পণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। এ সময় তিনি সংগঠনটির তৈরি হালাল পণ্যবিষয়ক নীতিমালা সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিসিআইর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মো. হেলাল উদ্দিন, এনডিসি বলেন, হালাল পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি বাংলাদেশের রফতানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত হতে পারে। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।



