বাংলাদেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ। তাদের মধ্যে অন্তত অর্ধকোটি টিআইএনধারী প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেন। রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কিছু সাধারণ ভুলের কারণে পরবর্তীতে করদাতাকে সম্পদ ও আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি।
বর্তমানে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে। এ কারণে সম্পদ, আয়, বিনিয়োগ ও ব্যয়ের তথ্য দেওয়ার সময় বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিচের পাঁচটি ভুল এড়িয়ে চলা উচিত।
১. প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে বেশি স্বর্ণ দেখানো
বাস্তবে যতটুকু স্বর্ণ রয়েছে, রিটার্নে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ দেখানো ঠিক নয়। আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য না থাকলে পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তাই রিটার্নে নিজের কাছে থাকা প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণই উল্লেখ করা উচিত।
২. অতিরিক্ত নগদ অর্থ দেখানো
আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য নেই, এমন অতিরিক্ত নগদ অর্থ রিটার্নে দেখানোও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হাতে বাস্তবে যত নগদ অর্থ রয়েছে, রিটার্নে সেটিই দেখানো প্রয়োজন।
আয়, সম্পদ এবং হাতে থাকা নগদের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে অতিরিক্ত অর্থের উৎস নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে।
৩. পাওয়া উপহারের তথ্য না দেওয়া
পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবান উপহারও রিটার্নে যথাযথভাবে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে জমি, ফ্ল্যাট, গয়না কিংবা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ থাকতে পারে।
এসব উপহারের তথ্য রিটার্নে উল্লেখ না করলে সম্পদের হিসাবের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব উপহারে সাধারণত কোনো ধরনের কর দিতে হয় না।
৪. বিনিয়োগের তথ্য গোপন রাখা
অনেকে নগদ অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেন। যেমন এফডিআর, ডিপিএস ও সঞ্চয়পত্র। এসব বিনিয়োগ রিটার্নে না দেখানো বড় ভুল হতে পারে।
বর্তমানে ব্যবস্থা অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় বিভিন্ন বিনিয়োগের তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব। তাই বিনিয়োগের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা উচিত। এতে কর সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে।
৫. আয়ের তুলনায় বেশি ব্যয় দেখানো
রিটার্নে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে স্বাভাবিক ভারসাম্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ বেশি দেখালে অতিরিক্ত অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এ ক্ষেত্রে করদাতাকে ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। তাই আয় ও ব্যয়ের হিসাব বাস্তবসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা জরুরি।
সম্পদ ও আয়ের উৎসের প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শুধু তথ্য উল্লেখ করলেই হবে না। প্রথমবার রিটার্নে যে সম্পদ এবং আয়ের উৎস দেখানো হচ্ছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখা ভালো।
একই সঙ্গে সম্পদ ও আয়ের উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণপত্রও সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। ভবিষ্যতে কোনো তথ্যের ব্যাখ্যা প্রয়োজন হলে এসব নথি কাজে লাগতে পারে।
তাই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়, সম্পদ, নগদ অর্থ, উপহার, বিনিয়োগ ও ব্যয়ের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিটার্ন জমা দিলে পরবর্তীতে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন বা ব্যাখ্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।









