GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / হাইকোর্ট স্থগিত করল এমপির স্ত্রীর কলেজ সভাপতিত্ব

হাইকোর্ট স্থগিত করল এমপির স্ত্রীর কলেজ সভাপতিত্ব

হাইকোর্টের বেঞ্চ ও কলেজের ভবন

কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সাভারের একটি মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি বদল করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে বসানোর আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। এতে প্রভাব খাটানো ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।

কী বিষয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

হাইকোর্টের বেঞ্চ ও কলেজের ভবন

সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের নিয়মিত গভর্নিং বডির মেয়াদে যখন এখনও আরও আট মাস বাকি, তখন স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—হাইকোর্ট তা স্থগিত করেছে। ফলে নতুন সভাপতি নিয়োগ কার্যকর করা যাচ্ছে না।

শুনানি শেষে সোমবার বেঞ্চের আদেশ

সোমবার আদালতে শুনানির পর হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কবে দায়িত্ব ছিল, কবে পরিবর্তনের চেষ্টা

এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য গভর্নিং বডির সভাপতি করা হয়েছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল

কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরে সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ আসে। সেই নির্দেশে নতুন সভাপতি করা হয় স্থানীয় এমপির স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে।

আইনজীবীর রিট ও আদালতে চ্যালেঞ্জ

আদেশ পাওয়ার পর ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্টদের বরাবর আইনি নোটিশ পাঠিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এরপরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না হওয়ায় তিনি রিট করেন।

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, কলেজ পরিদর্শক এবং কলেজ অধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়। চলমান কমিটির মেয়াদ থাকতেই সভাপতি পরিবর্তনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি সংক্রান্ত সংবিধি ২০১৯-এর ৭ ধারার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে আনা হয়।

প্রবাসী পাঠকদের জন্য গুরুত্ব: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বদলের মতো সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মানা জরুরি। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ মানে, প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতা প্রয়োগের পথ অন্তত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকল—যা ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়াগুলোতেও আচরণগত শৃঙ্খলা ধরে রাখতে সহায়ক।

প্রশ্ন-উত্তর

স্থগিতাদেশটা কিসের?
কলেজটির বর্তমান কমিটির মেয়াদ থাকা অবস্থায় সভাপতি পরিবর্তনের আদেশটি স্থগিত করা হয়েছে।

নতুন সভাপতি হিসেবে কাকে নিয়োগের নির্দেশ ছিল?
স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে সভাপতি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—যা স্থগিত করা হয়েছে।

কেন এই রিট করা হয়?
নিয়মিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিবর্তন, এবং স্বেচ্ছাচারিতা/বৈষম্যের অভিযোগ—এসব যুক্তিতে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons