GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ঢাকায় মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে ও হাব পরিকল্পনা

ঢাকায় মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে ও হাব পরিকল্পনা

ঢাকায় গণপরিবহন পরিকল্পনায় মেট্রোরেল ও পরিবহন হাবের ধারণাচিত্র

রাজধানীর দৈনন্দিন চলাচল যে পথে বদলাতে পারে—ডিটিসিএর মাল্টিমোডাল গণপরিবহন পরিকল্পনায় তার বড় একটি রূপরেখা এসেছে। তেজগাঁওয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ২০৪৫ সালের মধ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বড় করা, এক্সপ্রেসওয়ে এবং পরিবহন হাব গড়া—যাতে যানজট আর ভিড় নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে কাজ করা যায়।

২০৪৫ লক্ষ্য ধরে ঢাকায় পরিবহন পরিকল্পনা

ঢাকায় গণপরিবহন পরিকল্পনায় মেট্রোরেল ও পরিবহন হাবের ধারণাচিত্র

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) বলছে, কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান) ২০২৬–২০৪৫ অনুযায়ী ২০৪৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক ২৬৮ দশমিক ৫ কিলোমিটারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আলোচনায় বলা হয়, এই ধারাবাহিক উন্নয়নের ধাপগুলো আগেই ধরে রাখা হচ্ছে—আগের সময় থেকে ধাপে ধাপে নেটওয়ার্ক বাড়বে।

৮টি মেট্রোরেল, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে

নতুন পরিকল্পনায় একসঙ্গে অনেকগুলো অংশকে জুড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে রয়েছে ৮টি মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন এবং ২টি বিআরটি লাইন। সেই সঙ্গে ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাবও আছে।

বৃহত্তর ঢাকার সড়ক-কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভাবনাও রাখা হয়েছে—৩টি রিং রোড এবং ৮টি রেডিয়াল সড়ক তৈরির প্রস্তাব উল্লেখ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য, শহরের ভেতরের চলাচলকে কেন্দ্রের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া এবং যাতায়াতের চাপ কমানো।

২১টি পরিবহন হাবের পরিকল্পনা

ডিটিসিএর পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পরিবহন বদলের সুবিধা। বলা হয়েছে, ২১টি পরিবহন হাব নির্মাণের প্রস্তাব আছে। যাত্রীদের এক যান থেকে অন্য যান ব্যবস্থায় সহজে ওঠানামা করা—এমন উদ্দেশ্যই এখানে কার্যকর হবে বলে আলোচনা হয়েছে। প্রবাসী পাঠকের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কর্মজীবী পরিবারের দৈনন্দিন খরচ ও সময়ের বড় অংশই নির্ভর করে ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর।

গণপরিবহনে পতনের প্রসঙ্গ

আলোচনায় নগরীতে গণপরিবহনের ব্যবহার কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তোলা হয়। ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দৈনিক যাতায়াতে গণপরিবহনের অংশ ছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে কমে ৮ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে মোটরসাইকেল, তিন চাকার যান ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বাড়ার কথাও বলা হয়।

অংশীজনদের দৃষ্টিতে, নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা দাঁড় করাতে পারলে এই নেতিবাচক প্রবণতা ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।

ফিডার সার্ভিস ও অন্যান্য সংযোগ

মেট্রোরেলের সঙ্গে ‘ফিডার সার্ভিস’ যুক্ত করার প্রস্তাবও এসেছে। ডিটিসিএ জানায়, প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাঁচটি মনোরেল করিডরের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে যানজট কমাতে ঢাকার চারদিকে তিনটি রিং রোড নির্মাণে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সদরঘাট থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত একটি বৃত্তাকার নৌপথ ও একাধিক ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে। আন্তজেলা বাস টার্মিনালগুলো পর্যায়ক্রমে নগরের বাইরে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান বলেও আলোচনা উঠে আসে।

প্রবাসীদের জন্য কেন জরুরি

ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থার এই বড় পরিকল্পনা বাস্তব হলে দৈনন্দিন সময় নষ্ট কমবে, যাতায়াত খরচে চাপও কমতে পারে। এতে পরিবারকে সময়মতো দেখভাল করা, ব্যবসা ও চাকরির যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই স্বস্তি আসার সম্ভাবনা থাকে।

প্রশ্ন-উত্তর

১) ডিটিসিএর পরিকল্পনায় মূল লক্ষ্য কী?
২০৪৫ পর্যন্ত রাজধানীতে মাল্টিমোডাল গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণসহ রিং রোড, এক্সপ্রেসওয়ে ও হাব নির্মাণের লক্ষ্য।

২) গণপরিবহনের ব্যবহার কমার বিষয়টা কেন এসেছে?
আলোচনায় বলা হয়, দৈনিক যাতায়াতে গণপরিবহনের অংশ কমেছে—ব্যক্তিগত যান বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

৩) পরিবহন হাব রাখা হচ্ছে কেন?
যাত্রীরা এক যান থেকে অন্য যান ব্যবস্থায় সহজে বদলাতে পারেন—এমন সুবিধা নিশ্চিত করতেই পরিবহন হাবের পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons