যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা নিতে গেলে এখন “ভিসা বন্ড” কথাটা নতুন করে প্রভাব ফেলছে। সময়মতো দেশে ফিরলে বন্ড ফেরত, আর শর্ত ভাঙলে অর্থ বাজেয়াপ্ত—এই হিসাবটা প্রবাসী যাত্রার পরিকল্পনাতেই বড় ছাপ ফেলছে।
ভিসা বন্ড কীভাবে কাজ করবে

যুক্তরাষ্ট্র ‘বি-১’ ও ‘বি-২’ ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডকে স্থায়ীভাবে চালু করেছে। নীতির মূল কাঠামো হলো—ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময় মেনে না চললে যাতে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমে, সেই লক্ষ্যেই বন্ডের ধারণা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে এলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভিসার শর্ত লঙ্ঘন হলে সেই বন্ড বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ, এটা শুধু আবেদন প্রক্রিয়ার কাগজপত্র নয়—ঝুঁকির একটি আর্থিক মাপকাঠিও।
কারা বন্ডের আওতায় পড়তে পারেন
সবার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ড বসানো হবে না। ভিসা সাক্ষাৎকার শেষে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অবস্থা, আর্থিক সক্ষমতা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তা ঠিক করবেন বন্ড লাগবে কি না, লাগলে কত হবে।
তবে বাংলাদেশসহ মোট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য নীতিটি প্রযোজ্য—এভাবে নির্বাচনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, কোথায় ওভার স্টের হার তুলনামূলক বেশি এবং কোন জায়গা থেকে নিরাপত্তা বা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে পর্যাপ্ত সহযোগিতা মেলে না—সেসব দিককে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত।
টাকা ও ঝুঁকির হিসাব—প্রবাসীদের জন্য বাস্তব প্রভাব
এ নীতিতে আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফেরতযোগ্য বন্ড জমা রাখতে হতে পারে। নথিতে উল্লেখ আছে—কারও ক্ষেত্রে ১০ হাজার, ১৫ হাজার কিংবা সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড লাগতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটি আনুমানিকভাবে বেশ বড় অঙ্কের কাছাকাছি পড়ার কথা এসেছে।
প্রবাসী পরিবারের কাছে বিষয়টি মানে, ভ্রমণের পরিকল্পনায় শুধু টিকিট, খরচ আর ভিসা ফি নয়—সাথে “টাকা আটকানোর” চাপও যুক্ত হচ্ছে। সময়মতো দেশে না ফিরলে সেই টাকাই হারানোর ঝুঁকি থাকবে, ফলে আগে থেকেই শর্তগুলো ঠিকভাবে বোঝা এবং পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়াটা জরুরি হয়ে উঠছে।
এটা কি কেবল অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নাকি কূটনৈতিক বার্তা
বিশ্লেষকদের চোখে, ভিসা বন্ডকে ট্রাম্পের অভিবাসনকেন্দ্রিক কঠোর নীতির ধারাবাহিকতার অংশ বলেই দেখা হচ্ছে। তবে এর প্রভাব শুধু সীমান্ত নীতি বা ওভার স্টে কমানোতেই থেমে যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক চলাচল, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি—সব মিলিয়েই নতুন একটি বাস্তবতার দিক ইঙ্গিত করছে বলেই প্রশ্ন উঠছে।
কারণ প্রশাসনিক একটি ব্যবস্থাকে আর্থিক বাধ্যবাধকতায় রূপ দেওয়া হলে, তা একই সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক, তথ্য আদান-প্রদান এবং দেশগুলোর নীতিগত অবস্থান—এসব ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি করতে পারে। তাই ভিসা বন্ডকে অনেকে বাস্তবসম্মত কৌশল হিসেবেই ধরছেন।
প্রবাসীদের করণীয়
এখন থেকে ভ্রমণের আগে ভিসার শর্তগুলো পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া, নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী ঝুঁকি কমাতে সচেতন থাকা এবং দরকার হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেভাগে গুছিয়ে রাখা কাজে দেবে। বন্ড লাগবে কি না—তা কনস্যুলার সিদ্ধান্তে নির্ভর করবে, কিন্তু প্রস্তুতি নির্ভর করবে আপনার উদ্দেশ্য, সক্ষমতা ও পরিকল্পনার উপর।
কয়েকটি প্রশ্ন
১) বন্ড দিলে কি নিশ্চিতভাবে টাকা ফেরত পাব?
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরলে ফেরত দেওয়ার কথা বলা আছে। শর্ত লঙ্ঘন হলে বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
২) সবার কি একই পরিমাণ বন্ড দিতে হবে?
না। সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্ড লাগবে কি না এবং কত হবে তা ঠিক হয়।
৩) বাংলাদেশিরাও কি এই নীতির আওতায়?
নীতির তালিকায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









