মাগুরার শ্রীপুরে কবি কাজী কাদের নেওয়াজের স্মৃতিবাড়ি গেজেটভুক্ত হয়েও অযত্নে পড়ে আছে—আর তাই এখনই সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি উঠেছে। কারণ, বাড়িটি ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে সময়, সাহিত্যিক ঐতিহ্য এবং একজন শিক্ষকের স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
মুজদিয়ায় কবির বসতবাড়ি, পাশে সমাধি

শ্রীপুর উপজেলার মুজদিয়া গ্রামে মাগুরা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে কবি কাজী কাদের নেওয়াজের বাড়ি। বাড়ির পাশেই তাঁর সমাধি। জীবনের শেষ সময় তিনি এই গ্রামেই কাটিয়েছেন, এখান থেকেই সাহিত্যচর্চাও করেছেন। স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি আজও অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে।
গেজেটভুক্ত হলেও সংরক্ষণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই
বিস্ময় জাগানো বিষয় হলো—বাড়িটি এরই মধ্যে গেজেটভুক্ত হয়েছে। কিন্তু গেজেটভুক্তির পরও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও সংরক্ষণে চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি নেই। স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অযত্ন চলতে থাকলে স্থাপনাটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
হারালে শুধু বাড়ি নয়, হারাবে সাহিত্য-ঐতিহ্য
এখানকার মানুষ মনে করেন, এটি কেবল একটি পুরোনো বসতবাড়ি নয়। কাজী কাদের নেওয়াজের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি টিকিয়ে রাখা মানে একটি সময়কে ধরে রাখা। তাঁদের মতে, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন ঐতিহাসিক নিদর্শন হারিয়ে গেলে শুধু একটি বাড়ি হারানো হবে না; হারিয়ে যাবে একজন গুণী মানুষের স্মৃতির অধ্যায়ও।
কবির জীবন ও সাহিত্যচর্চার স্মৃতি
কবি কাজী কাদের নেওয়াজ ১৯০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্ম নেন মুর্শিদাবাদের তালেবপুরে। উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। দেশভাগের পর ঢাকায় নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন, পরে দিনাজপুর জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হন। ১৯৬৬ সালে অবসর নিয়ে মুজদিয়া গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি নিজ গ্রামেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করলেও কবিতাই ছিল প্রধান চর্চা। ‘মরাল’, ‘দাদুর বৈঠক’, ‘নীল কুমুদী’, ‘মণিদীপ’, ‘কালের হাওয়া’, ‘মরুচন্দ্রিকা’, ‘দুটি পাখি দুটি তারা’ ও ‘উতলা সন্ধ্যা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা। শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা পান। তাঁর ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতাটি আজও নতুন প্রজন্মের শিক্ষকের মর্যাদা ও আদর্শের প্রতীক হিসেবে বহমান।
সাহিত্য-সংস্কৃতির স্মৃতিকেন্দ্র করার আহ্বান
স্থানীয় সাহিত্যিক, শিক্ষক ও সচেতন মহল বলছেন—কালক্ষেপণ না করে বাড়িটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাড়িটিকে সাহিত্য-সংস্কৃতির স্মৃতিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিও উঠেছে, যাতে কবির স্মৃতি শুধু পড়ে না থাকে—পরবর্তী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
প্রশ্ন-উত্তর
গেজেটভুক্ত হওয়া মানে কি সংরক্ষণ নিশ্চিত?
গেজেটভুক্তি একটি পদক্ষেপ। স্থানীয়দের দাবি, এরপর প্রয়োজন কার্যকর সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।
এই স্মৃতিবাড়ি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এটি কবির জীবন, শিক্ষকতার অবদান এবং সাহিত্যচর্চার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহাসিক স্থান।
স্থানীয়রা কী চাইছেন?
বাড়িটি দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণ করে সাহিত্য-সংস্কৃতির স্মৃতিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









