GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / এমপিওবিহীন বেতনহীন ১০ শিক্ষকের পাঠদান চলছে

এমপিওবিহীন বেতনহীন ১০ শিক্ষকের পাঠদান চলছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি কলেজে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক দশকের বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা নেই—তবু থেমে নেই শ্রেণিকক্ষের পাঠদান। এমপিওভুক্ত (সরকারি অংশ) না হওয়ায় কলেজটির ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের ১০ শিক্ষক বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন, আর সংসার চালাতে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে বাড়তি কাজও করতে হচ্ছে তাদের।

দশ বছরেও মিলছে না এমপিও সুবিধা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি কলেজে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন

নাসিরনগরের চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজে মোট শিক্ষক ২৭ জন। এর মধ্যে ১৭ জন বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তবে ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের আলফাজ উদ্দিনসহ ১০ জন শিক্ষক ১১ থেকে ১৫ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অনুমোদন থাকলেও দীর্ঘদিন এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তাদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

কৃষিকাজ আর বাজারের আয়ে সংসার

আলফাজ উদ্দিন কলেজের প্রভাষক। সংসার চালাতে তিনি বর্গা নেওয়া জমিতে ধনেপাতা, পুঁইশাক, ডাঁটা ও বেগুনসহ মৌসুমি সবজি ফলান। তার পরিবারে মা-বাবা, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী আছেন। তিনি বলেন, কলেজে যোগ দেওয়ার পর থেকে এক টাকাও বেতন পাননি। জমিজমা না থাকায় বেঁচে থাকার তাগিদে পরিবারকে কৃষিকাজের পাশাপাশি মাঠ ও বাজারে কাজ করতে হয়।

দাওয়াত-অনুষ্ঠানেও বাধা অর্থাভাব

শিক্ষক আলফাজ উদ্দিনের আক্ষেপ, গ্রামের সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে না পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বেশি কষ্টের। কারণ, দৈনন্দিন খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় বলে তিনি বলেন, দাওয়াত মানেই বাড়তি চাপ। এভাবে পড়ানোর পাশাপাশি নিজের জীবনও অনিশ্চিত হয়ে ওঠায় দিনগুলো কাটছে।

যাতায়াত খরচসহ বাড়তি চাপ

একই কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের আবদুর রশিদ ২০১৪ সালে যোগ দেন। তিনি এক যুগের বেশি সময় ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাননি। স্ত্রীর আয় দিয়েও সংসার চলে না—এ কারণে জমিজমা বিক্রির মতো কঠিন সিদ্ধান্তও এসেছে। বর্তমানে তিনি সবজি চাষের পাশাপাশি টিউশনি করেন। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের খরচও তার জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে।

কলেজের ভবিষ্যৎও শঙ্কার মুখে

চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার পটভূমিতে স্থানীয় উদ্যোগের ভূমিকা থাকলেও, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি না হওয়ায় ডিগ্রি শাখার ধারাবাহিকতাও ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে বলে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। এমপিও সুবিধা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে মানসম্মত পাঠদান বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে—এমন উদ্বেগও থাকছে শিক্ষকদের মধ্যে।

প্রবাসী পাঠকের জন্যও বার্তাটি জরুরি—বাংলাদেশে শিক্ষা ও চাকরির অনিশ্চয়তা শুধু ভিতরের মানুষের নয়, প্রবাসী পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের স্বপ্ন-আয়োজনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। শিক্ষকরা নিয়মিত পড়ালেও বেতন না থাকায় টাকার চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি শিক্ষাঙ্গনের স্থিতিও নড়বড়ে হচ্ছে।

প্রশ্ন-উত্তর

কয়জন শিক্ষক বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না? কলেজটিতে ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের ১০ জন শিক্ষক দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।

তারা কীভাবে সংসার চালাচ্ছেন? কৃষিকাজ, যাতায়াতের বাড়তি খরচ সামলানো এবং প্রয়োজনমতো টিউশনি করে।

সমস্যাটি কেন দীর্ঘ হচ্ছে? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অনুমোদন থাকলেও দীর্ঘদিন এমপিওভুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons