জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৬-এর বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরে আলোচনায় এসেছে “রূপান্তরিত কাণ্ড” আর তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ টিউবার। এই অংশটা প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজে দেবে—কারণ পরীক্ষায় সংজ্ঞা, উদাহরণ আর পার্থক্য গুছিয়ে লিখতে হয়।
রূপান্তরিত কাণ্ড—সংজ্ঞা আর মূল ধারণা

যেসব কাণ্ড তাদের সাধারণ কাজ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য কাণ্ডের আকৃতিগত ও অবস্থাগত পরিবর্তন ঘটায়, তাদের রূপান্তরিত কাণ্ড বলা হয়। অর্থাৎ, উদ্ভিদ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কাণ্ডকে বদলে নতুন কাজে লাগায়।
টিউবার (কন্দ)—আলুর সঙ্গে মিল
টিউবার হলো মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগ খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে যে কন্দ তৈরি করে। আলুর ক্ষেত্রে কন্দ হয় এবং ভবিষ্যতের খাদ্য জোগায়। এসব কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র গর্ত থাকে—গর্তগুলোকে চোখ বলা হয়। প্রতিটি চোখ থেকে আলাদা করে নতুন উদ্ভিদ জন্মাতে পারে।
রাইজোম, মুকুল আর খাদ্য সঞ্চয়
রাইজোম সাধারণত মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে থাকে এবং কাণ্ডের মতো পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট হয়। পর্বসন্ধিতে শল্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মায়। এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে অনুকূল পরিবেশে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ তৈরি করে—যেমন আদা।
নীরস ফল ও শুষ্ক ফল—ঢ্যাঁড়সের প্রসঙ্গ
যেসব ফলের ফলত্বক পাতলা এবং পরিপক্ব হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায়, সেগুলোকে নীরস ফল বলা হয়। ঢ্যাঁড়সের ক্ষেত্রেও ফলত্বক পাতলা; পরিপক্ব হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায়। তাই একে নীরস বা শুষ্ক ফলও বলা হয়।
পরাগায়ন: স্ব-পরাগায়ন বনাম পর-পরাগায়ন
স্ব-পরাগায়ন হলো একই ফুলে বা একই গাছের দুটি ভিন্ন ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ। পর-পরাগায়ন হলো একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ। পরীক্ষায় এই দুটির সংজ্ঞাই সাধারণত সবচেয়ে বেশি চাওয়া হয়।
কচুর প্রজনন: স্টোলন
কচুগাছের প্রজনন স্টোলনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। স্টোলন হলো কচুগাছের শাখা কাণ্ড, যা প্রজননের জন্য পরিবর্তিত। স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল তৈরি হয়; উপযুক্ত পরিবেশে মুকুল বড় হয়ে পূর্ণাঙ্গ কচুগাছ জন্ম দেয়।
পুষ্পমঞ্জুরি: নিয়ত ও অনিয়ত বৃদ্ধি
কাণ্ডের শীর্ষ মুকুল থেকে যে শাখা ফুল উৎপন্ন করে, সেটিকে পুষ্পমঞ্জুরি বলা হয়। বৃদ্ধি অসীম হলে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জুরি এবং বৃদ্ধি সসীম হলে নিয়ত পুষ্পমঞ্জুরি। পরাগায়নের জন্য এর গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়।
ফাইটোহরমোন—বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণ
উদ্ভিদদেহে উৎপাদিত বিশেষ জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি, বিকাশ ও বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি হয়—তাকে ফাইটোহরমোন বলে। ফাইটোহরমোন কোষে তৈরি হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রশ্নোত্তর—দ্রুত মনে রাখার জন্য
১) আলু কেন টিউবার?
মাটির নিচের শাখা খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দ তৈরি করে—এই কন্দই টিউবার। আলুতে সেটিই ঘটে।
২) টিউবারের চোখ কী?
কন্দের গায়ে থাকা ক্ষুদ্র গর্তগুলোকে চোখ বলা হয়; সেখান থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়।
৩) স্ব-পরাগায়ন আর পর-পরাগায়নের পার্থক্য?
স্ব-পরাগায়নে পরাগ আসে একই গাছের একই বা ভিন্ন ফুল থেকে; পর-পরাগায়নে পরাগ আসে একই প্রজাতির ভিন্ন উদ্ভিদের ফুল থেকে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









