GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / সমুদ্রে গোসল করতে নেমে মৃত্যু ইয়াছিনের

সমুদ্রে গোসল করতে নেমে মৃত্যু ইয়াছিনের

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে লাইফগার্ড নিরাপত্তা জোনের দৃশ্য

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন রামু সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন। হাত ধরে বাঁচাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত স্রোতের টানেই তাঁর হাত ছুটে যায়।

হাত ধরেও স্রোতে ভেসে যায় ইয়াছিন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে লাইফগার্ড নিরাপত্তা জোনের দৃশ্য

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলীর মধ্যবর্তী সার্ফিং ক্লাবের সামনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঢেউ ও স্রোতের মধ্যে ইয়াছিনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর বন্ধু মো. শাহিদ। কিছুক্ষণ ধরে রাখতে সক্ষম হলেও একপর্যায়ে স্রোতের তীব্রতায় ইয়াছিনের হাত ছুটে যায়। মুহূর্তেই তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান।

উদ্ধারের পর হাসপাতালে মৃত্যু

ঘটনার পর বন্ধুদের মধ্যে কেউ কাছের পুলিশ বক্সে খবর দেন। পরে সি-সেইফের লাইফগার্ড কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কিছুক্ষণ অনুসন্ধানের পর সমুদ্র থেকে ইয়াছিনকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে বিপদ

জানা গেছে, ইয়াছিন আজ সকালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসেন তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে। প্রথমে তাঁরা কলাতলী এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। পরে হাঁটতে হাঁটতে কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের মধ্যবর্তী সার্ফিং ক্লাবের সামনের সৈকতে যান। একপর্যায়ে চার বন্ধু সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। ওই সময়ই ইয়াছিন প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়েন।

সতর্কতা: লাইফগার্ড নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গোসল

লাইফগার্ড কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়াছিন ও তাঁর বন্ধুরা যে জায়গায় গোসল করতে নেমেছিলেন, সেখানে লাইফগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা অবস্থান করছিলেন না। বর্তমানে সমুদ্র উত্তাল এবং তীব্র স্রোত রয়েছে। তাই পর্যটক ও স্থানীয়দের লাইফগার্ড নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ জোনে গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত ইয়াছিনের লাশ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইয়াছিনের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। পরিবারের সঙ্গে তিনি কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া ফুলবাগ সড়ক এলাকায় থাকতেন। তিন ভাই–বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

প্রবাসী পাঠকের জন্য গুরুত্বটা কোথায়?
সমুদ্রের উত্তালতা আর স্রোত—দেখতে ‘স্বাভাবিক’ মনে হলেও মুহূর্তে বিপদ ডেকে আনতে পারে। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় গোসল হবে, সেটা আগে থেকেই নিশ্চিত করা জরুরি।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

ইয়াছিন কোথায় মৃত্যু হয়েছে?
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলীর মধ্যবর্তী সার্ফিং ক্লাবের সামনের এলাকায়।

কী কারণে ঘটনা ঘটে?
প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ায় তিনি নিখোঁজ হন।

লাইফগার্ডের পরামর্শ কী?
লাইফগার্ড নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ জোনে গোসল করতে হবে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons