GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / খুলনায় কমার্স কলেজে আসন খালি ৫ শতাধিক

খুলনায় কমার্স কলেজে আসন খালি ৫ শতাধিক

খুলনার কমার্স কলেজ ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থী উপস্থিতির চিত্র

খুলনার আযম খান সরকারি কমার্স কলেজে এখন বোর্ড-নোটবইয়ের ভিড় কমে গেছে। সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ৫৭৮টি আসন খালি থেকে গেছে—যা মোট আসনের বড় অংশ।

একই কলেজে চিত্র বদলে গেছে

খুলনার কমার্স কলেজ ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থী উপস্থিতির চিত্র

একসময় প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর ছিল। কিন্তু পরে শিক্ষার্থী কমতে কমতে এখন প্রায় ৬ হাজার জনে নেমেছে। শুধু শিক্ষার্থীই নয়, প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক আসনও খালি থাকছে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কম, আসন খালি বেশি

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কলেজটির স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ৪টি বিষয়ে মোট ১ হাজার ১৩০টি আসন ছিল। এর বিপরীতে ভর্তি হয়েছেন ৫৫২ জন। ফলে খালি আছে ৫৭৮টি আসন—মোট আসনের ৫১ শতাংশের বেশি

এর আগের শিক্ষাবর্ষে খালি ছিল ১৯২টি আসন। অর্থাৎ শূন্য আসনের সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ছে। প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উচ্চশিক্ষায় সিট কমে গেলে পড়াশোনার পরিকল্পনা ও খরচ—দুটিই প্রভাবিত হয়।

ব্যবসায় শিক্ষায় ভাটা—বৃহত্তর চিত্রও একই

আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এই প্রবণতা। যশোর শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরিসংখ্যানেও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হার ধাপে ধাপে কমার চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২৩ সালে মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের হার ছিল ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে নেমে আসে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশে।

শুধু অনুপাত নয়, সংখ্যায়ও কমছে। ২০২৪ সালে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৫ হাজার ১৮০ জন; ২০২৫ সালে কমে ১২ হাজার ৭৬৪ জনে দাঁড়ায়, আর ২০২৬ সালে তা আরও কমে ১২ হাজার ৪৯৪ জনে হয়েছে।

কারণ হিসেবে শিক্ষার্থী কমা ও সময়ের প্রভাব

কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, করোনা মহামারির আগেও এখানে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ছিল। করোনার পর থেকে শিক্ষার্থী কমতে শুরু করে। গত ৩ বছরে শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ৬ বছরে কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ—এমন অভিমতও এসেছে কলেজ প্রশাসনের বক্তব্যে।

সব ধরনের কলেজেই শিক্ষার্থী কমার চাপ থাকলেও, যেসব জায়গায় শুধু বাণিজ্য বিষয় পড়ানো হয়, সেখানে প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি স্পষ্ট হচ্ছে—এই কথাও উঠে এসেছে।

প্রবাসী শিক্ষার্থী-পরিবারের জন্য ইঙ্গিত

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহু পরিবারই দেশে ফিরে পড়াশোনার খরচ ও পরিকল্পনা সাজায়। ব্যবসায় শিক্ষায় আসন খালি বাড়লে ভর্তি প্রতিযোগিতা বদলায়, ফলে পছন্দের বিষয় ও প্রস্তুতির পথও নতুন করে ভাবতে হয়। তাই শিক্ষার্থীরা যে দিকে ঝুঁকছে, সেই প্রবণতা বুঝে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রশ্ন ও উত্তর

আযম খান সরকারি কমার্স কলেজে সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে কত আসন খালি ছিল?
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ৫৭৮টি আসন খালি ছিল।

ব্যবসায় শিক্ষায় ভাটা কি শুধু ওই কলেজে?
না, যশোর শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায়ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অংশ ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

শিক্ষার্থী কমার পেছনে কী বলা হচ্ছে?
করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী কমতে শুরু করেছে—এমন বক্তব্য রয়েছে কলেজের অধ্যক্ষের।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons