এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আলোচনায় এসেছে সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর অপহরণ–ঘটনার ‘দ্বিতীয় চেষ্টার’ প্রসঙ্গ। সেনা হেফাজতে থাকা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখাতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে—যা প্রবাসী পরিবারের জন্যও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আরও জোরালো করে।
দ্বিতীয় দফায় অপহরণ—প্রসিকিউশনের দাবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় প্রথম চেষ্টার পর দ্বিতীয় দফায় তাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ আছে। প্রসিকিউশনের উপস্থাপনায় সেই অভিযানের নেতৃত্ব দেন জিয়াউল আহসান—এমন বক্তব্য উঠে এসেছে।
সেনা হেফাজত থেকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সেনা হেফাজতে থাকা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গুমের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার (৯ আগস্ট) আদালতের আদেশ আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বনানী থেকে নিখোঁজ—পরবর্তী ধাপ
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ি চালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের খোঁজ মেলেনি। পরে, বিভিন্ন অভিযোগে ইলিয়াস আলীকে ‘গুম’ করানোর প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়।
তদন্তের ধারায় সাক্ষ্য ও নামের সম্পৃক্ততা
ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে এগিয়েছে—মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসার প্রসঙ্গ। এরপর ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখার মাধ্যমে তাকে আটক করার পর সেনার বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে অপহরণ ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে। অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলমান আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসে থাকা মানুষের কাছে এই ধরনের মামলার অগ্রগতি মানে কেবল আদালতের কাগজ নয়—পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, হারানো স্বজনের স্মৃতি, এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তার পথ। গ্রেফতার দেখানোর মতো আনুষ্ঠানিক ধাপগুলো বিচারকাজকে এগিয়ে নেয়, যা শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বাড়ায়।
সংক্ষেপে কয়েকটি প্রশ্ন
ইলিয়াস আলী অপহরণ মামলায় এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো?
সেনা হেফাজতে থাকা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে।
রোববার আদালতে কী হতে পারে?
আবেদনের বিষয়ে আদালত আদেশ দিতে পারে—এমন আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় চেষ্টার নেতৃত্ব কার বলে বলা হচ্ছে?
প্রসিকিউশনের বক্তব্যে নেতৃত্বের কথা এসেছে জিয়াউল আহসানের প্রসঙ্গে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









