GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: স্পর্শকাতরতা এড়িয়ে অভিন্ন স্বার্থ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: স্পর্শকাতরতা এড়িয়ে অভিন্ন স্বার্থ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতীকী চিত্র

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে আস্থা তৈরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের পর গতি আসার কথা থাকলেও ভিসা সিদ্ধান্ত ও কূটনৈতিক বার্তার সমন্বয়ে টান ধরায় বাস্তবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

নির্বাচনের পর বার্তা এলেও অগ্রগতি থমকাল

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতীকী চিত্র

বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার পর সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ভারতের সরকারি মহল থেকে ইতিবাচক বার্তা এসেছিল—এমন ইঙ্গিতও ছিল নির্বাচনের সময়। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারতের ভেতরে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষক এম হুমায়ুন কবির। তাঁর বক্তব্যে ইতিবাচক পথে এগোনোর প্রক্রিয়া থেমে যাওয়ার চিত্র উঠে আসে।

কৌশলগত গতিপথে স্থির ভারত

বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারত একধরনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ধারায় চলে গেছে। নির্বাচনের পরপরই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা অবারিত করা হলেও বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়নি ভারত। পুরোদমে ভিসা চালুর ক্ষেত্রে ভারতের হাইকমিশনারের ঢাকায় পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের একধরনের কৌশলগত গতিপথ থেকে সরে আসার আগ্রহ কম—এমন ধারণা তৈরি হয়।

আস্থা তৈরিতে পিছিয়ে থাকা গত ছয় মাস

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে গত ছয় মাসে যে আস্থা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটা স্পষ্টভাবে তৈরি হয়নি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার আগ্রহ নেই—এমন ইঙ্গিতও উঠে আসে। ফলে নির্বাচনের পর যে গতি আসার কথা ছিল, সেটি দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফর ও দিল্লির বার্তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে গেলে ভারতীয় নানা মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের পক্ষ থেকে এমন বার্তা এসেছে বলে বিশ্লেষণটি ইঙ্গিত করে যে বাংলাদেশ প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী নয়। এ কারণে দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে কোনো বার্তা পাঠানোর চেষ্টা কি না—সেটাও আলোচনায় আসে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বার্তাটি কী?

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক টানটান হলে প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন বাস্তবতায়—যাত্রা, ভিসা প্রক্রিয়া, কাজের সুযোগ আর যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়ে। ভিসা সিদ্ধান্তে ধীরগতি বা কূটনৈতিক সমন্বয়ের ঘাটতি প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনায় সরাসরি বাধা তৈরি করে। তাই স্পর্শকাতরতা এড়িয়ে অভিন্ন স্বার্থে স্থিতিশীল পথ খোঁজার প্রয়োজনীয়তাই উঠে আসে এই বিশ্লেষণে।

কী থাকতে পারে সমাধানের পথে

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে বার্তা ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা দরকার। বিশেষ করে নাগরিকদের ভিসা ও যাতায়াত-সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত সমন্বয় সম্পর্কের প্রতি আস্থা তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে—এমন দৃষ্টিও বিশ্লেষণটিতে প্রাধান্য পেয়েছে।

প্রশ্নোত্তর

১) নির্বাচনের পর ভারত কীভাবে এগোয়?
নাগরিকদের ভিসা অবারিত হলেও বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে বিলম্বের চিত্র এসেছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়।

২) আস্থা তৈরি না হওয়ার কারণ কী হিসেবে ধরা হয়েছে?
সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা, কূটনৈতিক বার্তার অসামঞ্জস্য এবং প্রত্যাশিত গতি না আসাকে মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

৩) প্রবাসীদের উপর প্রভাব কী?
যাতায়াত ও ভিসা প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা তাদের পরিকল্পনা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com (প্রথম আলো)

Social Icons