GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সাহিত্য / ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ পাঠচক্র কক্সবাজার

‘জোছনা ও জননীর গল্প’ পাঠচক্র কক্সবাজার

কক্সবাজার বন্ধুসভার পাঠচক্রে ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ বই নিয়ে আলোচনা

কক্সবাজারে বন্ধুসভা আয়োজিত পাঠচক্রে নতুন প্রজন্মের পাঠকদের সামনে উন্মোচিত হলো ‘জোছনা ও জননীর গল্প’। বইয়ের পাতায় পাতায় শুধু কাহিনি নয়, ১৯৭১-এর ভয়, অনিশ্চয়তা, ত্যাগ আর স্বাধীনতার আনন্দ-বেদনা—সবই যেন একসঙ্গে ধরা দিল।

পাঠের আসরে উঠে এলো মুক্তিযুদ্ধের মানসচিত্র

কক্সবাজার বন্ধুসভার পাঠচক্রে ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ বই নিয়ে আলোচনা

কক্সবাজার বন্ধুসভা একটি বই, কয়েকটি চরিত্রের ভেতর দিয়ে পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছে মুক্তিযুদ্ধের সময়টাকে। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসটি পড়ে শোনার ও আলোচনা করার মধ্য দিয়ে যেন ফিরে আসে সে সময়ের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, সাধারণ মানুষের ত্যাগ, ভয় আর অনিশ্চয়তা।

কাল্পনিক চরিত্রে মিশে বাস্তবের টান

পাঠচক্রে বলা হয়, উপন্যাসটি শুধু কল্পনার নয়। ইতিহাসের সত্য ঘটনা ও বাস্তব চরিত্রের সংমিশ্রণে রচিত এই বইয়ের পটভূমি পাঠকের মনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুনভাবে অনুভব করার জায়গা তৈরি করে। আলোচনা উঠে আসে—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, মাওলানা ভাসানী, নিয়াজি, জুলফিকার আলী ভুট্টোর মতো ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর উপস্থিতির কথা।

যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়িয়ে মানুষের ঘরে যুদ্ধ

আয়োজকদের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়—যুদ্ধ এখানে শুধু সামরিক লড়াই হিসেবে থাকেনি। বরং তা ছড়িয়ে পড়ে পরিবার, সম্পর্ক, এবং প্রতিদিনের বেঁচে থাকার সংগ্রামে। শাহেদ বা ইরতাজউদ্দিনের মতো চরিত্রের মধ্য দিয়ে অবরুদ্ধ ঢাকার সাধারণ নাগরিক ও গ্রামের মানুষের ভয়-অনিশ্চয়তার মনস্তত্ত্ব উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

গণহত্যা ও নির্যাতনের স্মৃতি মানসিকভাবে নাড়া দেয়

আয়েশা সিদ্দিকার কথায়, উপন্যাসে ২৫ মার্চের কালরাতের গণহত্যা এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দীর্ঘ নির্যাতনের এক জীবন্ত ও বেদনাদায়ক ছবি ফুটে ওঠে। পাঠের সময় মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াবহতাই নড়া দেয় পাঠকের মনের গভীরে।

নতুন প্রজন্মের পাঠে সাড়া

আয়োজকেরা জানান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই উপন্যাসটি নতুন প্রজন্মের পাঠকদের মধ্যেও সাড়া জাগিয়ে চলেছে। বইটির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছোঁয়ার কথাও উঠে আসে—লেখক ও তাঁর পরিবারের বন্দিদশা ও কষ্টের বাস্তব অনুভূতিকে ঘিরেই উপন্যাসটি আরও জীবন্ত ও আবেগঘন হয়ে উঠেছে।

প্রবাসী পাঠকদের জন্যও এ ধরনের পাঠচক্রের তাৎপর্য থাকে আলাদা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে গল্পের ভেতর দিয়ে অনুভব করার সুযোগ তৈরি হলে ভাষা, স্মৃতি আর পরিচয়ের টান আরও জোরালো হয়—বিশেষ করে যারা দূরে থেকেও দেশের অতীতকে আপন করে রাখতে চান।

প্রশ্নোত্তর

‘জোছনা ও জননীর গল্প’ নিয়ে কক্সবাজারে কী হয়েছে?
কক্সবাজার বন্ধুসভার পাঠচক্রে উপন্যাসটি নিয়ে আলোচনা ও পাঠের আসর বসেছে।

উপন্যাসটির মূল টান কী?
কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে ইতিহাসের সত্য ঘটনা মিলিয়ে যুদ্ধের সময় মানুষের ভয়, ত্যাগ ও স্বাধীনতার অনুভূতি তুলে ধরা।

কেন এটি নতুন প্রজন্মের কাছে টানে?
গল্পের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে অনুভব করা যায়—যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়িয়ে মানুষের ঘর, সম্পর্ক ও বেঁচে থাকার সংগ্রামে তা ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: bondhushava.com

Social Icons