অনেক অভিভাবকেরই দুশ্চিন্তা—শিশু বইয়ের চেয়ে মোবাইল, ট্যাব বা টিভির দিকেই বেশি ছুটছে। অথচ বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে কল্পনাশক্তি, ভাষা দক্ষতা আর মনোযোগ—সবই ধীরে ধীরে শক্ত হয়।
বই কেন শিশুদের জন্য দরকার

বই শুধু জ্ঞান বাড়ায় না। বই শিশুদের চিন্তা-ভাবনা প্রসারিত করে। গল্পের ভেতর দিয়ে তারা নতুন জগৎ চিনে, চরিত্রের সাথে সংযোগ করতে শেখে। ফলে জীবনের নানা শিক্ষা, অনুভূতি আর উপলব্ধি তাদের স্বাভাবিকভাবেই আসে।
রুটিন বানান, চাপ দেবেন না
ঘুমানোর আগে, বিকেলের নাস্তার পরে বা রাতের খাবারের পর—যে সময়টা শিশুদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক, সেই সময় বের করুন। ওই সময়টাকে বারবার একইভাবে ধরে রাখুন, যাতে বইপড়া এক ধরনের স্বাভাবিক অভ্যাসে দাঁড়ায়।
তবে বইপড়াকে কখনো চাপ বানাবেন না। শিশুটি যদি পড়তে না চায়, তখন জোর না করে পড়া বন্ধ রাখুন। পরে সুযোগ মতো আবার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন—মন থেকে পড়া শুরু হলেই অভ্যাস গড়ে ওঠে।
টিভি ও মোবাইল থেকে একটু দূরে
বইপড়ার পরিবেশটা গুরুত্বপূর্ণ। টিভি ও মোবাইল থেকে কিছুটা দূরে শান্ত জায়গায় বসিয়ে পড়তে দিন। একই সঙ্গে শিশুর ঘরে ছোট্ট একটা বইয়ের কোণ করতে পারলে সুবিধা হবে। খেলনা বা গ্যাজেটের মতো হাতের কাছেই বই থাকলে স্বাভাবিকভাবেই বইয়ের দিকে টান তৈরি হয়।
পছন্দ না হলে বদলান, সময় দিন
শিশুর সব বই একইভাবে পছন্দ হওয়া জরুরি নয়। কোনো বই ভালো না লাগলে অন্য বই দিন। বয়স অনুযায়ী বই বেছে নিন এবং আগ্রহ ধরে রাখতে মাঝে মাঝে নতুন বই যোগ করুন। পড়তে পড়তে শিশুর পছন্দ তৈরি হবে—তারপর অভ্যাসটা নিজের মতো শক্ত হবে।
লাইব্রেরি ও বই নিয়ে আনন্দ
সুযোগ থাকলে কাছের লাইব্রেরি বা বুক ক্যাফেতে যাওয়া যেতে পারে। নিয়ম করে লাইব্রেরিতে গেলে শিশু বইয়ের জগৎ দেখবে। চাইলে শিশুর জন্য আলাদা লাইব্রেরি কার্ডও বানানো যায়।
আরেকটা কাজ—আপনি নিজেও শিশুদের সামনে বই পড়ুন। বইটি আপনার কেন ভালো লেগেছে, সেটা সহজ ভাষায় শেয়ার করুন। তাহলে শিশুর মনে বইপড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মায়।
শুরুটা সহজ করুন
শিশুর বয়স কম হলে শুরুতে মজার গল্পের বই দিন। প্রশ্ন না করে গল্প নিয়ে কথা বলুন। সময় হলে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়তেও দিন—এভাবে শিশুর সাথে বইয়ের সম্পর্কটা আরও গভীর হয়।
সবচেয়ে বড় কথা—বইপড়া কোনো বোঝা নয়; এটি আনন্দের অভ্যাস। ধৈর্য ধরে সাহায্য করলে বইপড়ার অভ্যাস নিজেই তৈরি হয়ে যাবে, আর বই হয়ে উঠবে শিশুর সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী।
কিছু দ্রুত প্রশ্ন
শিশু পড়তে চাইছে না—তাহলে করব কী?
জোর করবেন না। মেজাজ না থাকলে বন্ধ রেখে পরে আবার চেষ্টা করুন।
বই বাছাইয়ে কী খেয়াল রাখবেন?
বয়স অনুযায়ী বই দিন, পছন্দ না হলে দ্রুত বদলান।
অভ্যাস গড়তে কতটা সময় লাগতে পারে?
একই সময়ে নিয়ম ধরে রাখলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









