GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ পূর্ণতার পথে, নতুন ভিত্তিপ্রস্তর

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ পূর্ণতার পথে, নতুন ভিত্তিপ্রস্তর

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজ এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দৃশ্য

দেড়যুগেরও বেশি সময় ধরে স্বপ্নের আকাশ ছুঁতে থাকা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ এখন পূর্ণতার পথে। নির্মাণাধীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও সরাসরি অর্থবহ বার্তা দিচ্ছে—নিজের এলাকায় মানসম্মত চিকিৎসা সেবার সুযোগ ধীরে ধীরে কাছে আসছে।

যাত্রা শুরু অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজ এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দৃশ্য

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ (কমেক) ২০০৮ সালে জেলা সদর হাসপাতালের একটি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করে। এরপর ২০১৭ সালে স্বল্প পরিসর থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রত্যাবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটি। একে একে শিক্ষার্থীদের ১৮টি ব্যাচও পেরিয়েছে।

২০১৭ সালের ভিত্তিপ্রস্তর, পরে গতি হারানো

২০১৭ সালের ৬ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে আর্থিক নানা সংকটের কারণে নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন এনে হাসপাতাল ভবনসহ আরও ২৬টি স্থাপনার কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়।

এক বছরে বহুতল অবকাঠামোর অগ্রগতি

গত এক বছরে বেশ কিছু ভবন বহুতল হয়েছে। প্রথম ফ্লোরও দৃশ্যমান হয়েছে হাসপাতালের। পাশাপাশি অবকাঠামো ও জনবলের সংকট কাটিয়ে পূর্ণতার দিকে এগোতে চাচ্ছে কলেজটি—নতুন ভবনগুলোর কাজও একই গতিতে এগোচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে নতুন ভিত্তিপ্রস্তর

এরই মধ্যে অবকাঠামোগত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে নির্মাণাধীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন না হওয়া হাসপাতাল ভবনটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার অনুরোধে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এ কারণেই নতুন করে ভিত্তিপ্রস্তর হয়েছে।

প্রতিদিনের ভোগান্তি কমাতে ৫০০ শয্যার স্বপ্ন

কমেক শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন বাস্তবতা খুবই কঠিন। স্থায়ী ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল না হওয়ায় দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিয়মিত ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হয় জেলার ২৫০ শয্যার হাসপাতালস্থ অস্থায়ী ক্যাম্পাসে। সময় ও ভোগান্তি—দুই-ই বাড়ে।

অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা সদরে ২৫০ শয্যার হাসপাতালই ভর করছে প্রায় ২৮ লাখ জনগোষ্ঠীর চাপ সামলাতে। প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নেন, ভর্তি থাকেন অনেক রোগী। অতিরিক্ত রোগী ফ্লোরে বা সিঁড়ি-করিডোরে পর্যন্ত অবস্থান নেন। এর সঙ্গে যুক্ত আছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের চাপ এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সংকট। ফলে বিশেষায়িত সেবা না পেলে রোগীকে দূরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ বা ঢাকায় স্থানান্তরের বাধ্যতাও তৈরি হয়।

যে পূর্ণতা শুধু ভবন নয়

কমেকের পূর্ণতা মানে শুধু একটি ভবন দাঁড় করানো নয়। মেডিকেল শিক্ষায় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সবচেয়ে বড় অংশ। বিএমডিসির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি মেডিকেল কলেজের টিচিং হাসপাতাল থাকা আবশ্যক। ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হলে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও রোগীদের চিকিৎসা—দুই দিকেই স্বস্তি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো পরিকল্পনাতেও দেখা যাচ্ছে গতি—ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভবন, নার্সিং ডরমেটরি, কলেজ, স্টাফ কোয়ার্টার, মসজিদসহ ২৬টি স্থাপনার কাজ চলমান। সব মিলিয়ে দেড়যুগের অপেক্ষার পর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পথ এখন দৃশ্যমান।

প্রশ্নোত্তর

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভিত্তিপ্রস্তর কবে স্থাপন করা হলো? শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে নির্মাণাধীন হাসপাতাল প্রকল্পের নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

কেন এই হাসপাতাল প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ? স্থায়ী ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হলে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ভোগান্তি কমবে এবং রোগীদের বিশেষায়িত সেবাও সহজ হবে।

হাসপাতাল ভবন ছাড়াও আর কী কাজ হচ্ছে? হাসপাতালসহ ২৬টি স্থাপনার কাজ চলছে—ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভবন, ডরমেটরি, কলেজ ভবন, স্টাফ কোয়ার্টার ও মসজিদসহ।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons