খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে নির্যাতনের পর জোর করে ভাত, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল।
নির্যাতনের একপর্যায়ে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হলে আতঙ্কিত হয়ে আয়মান চারতলার ছাদ থেকে পাশের তৃতীয় তলায় লাফ দেন। সেখান থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার এক আসামি দাবি করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আসিফের দাবি
বুধবার রাতে গ্রেফতার হওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ আসিফ হোসেন (২৮) এলিট ফোর্স এসআরবি-৬-এর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ জানান, বুধবার রাত আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর থেকে আসিফকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেএমপির হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার রাতে কী হয়েছিল?
আসিফের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসংলগ্ন একটি ভবনে তার ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে আয়মানকে মারধর করা হচ্ছিল।
একপর্যায়ে তাকে চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে চুরি সংক্রান্ত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে এসব বক্তব্যের সত্যতা খতিয়ে দেখছেন।
যাদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার দাবি
জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ দাবি করেছেন, মেস ম্যানেজার মেহেদী এবং কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাবিব রিফাত এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তার দাবি, তারা ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী।
এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের সামনে থাকা মা-বাবার দোয়া তানহা জুস কর্নারের মালিক তারেক ওরফে রুবেল আয়মানকে বেশি মারধর করেছিলেন বলেও আসিফ দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
মামলায় গ্রেফতার ৪
আয়মানের মৃত্যুর ঘটনায় এর আগে মঙ্গলবার রাতে হাবিব রিফাত (৩০) ও তারেক ওরফে রুবেল (৩৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। একই ঘটনায় প্রতাপ সরকার (২৮) নামে আরও একজনকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।
পরে শেখ আসিফ হোসেন গ্রেফতার হওয়ায় এ মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানান, মামলার আসামি হাবিব রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি জানান, অন্য আসামিরাও স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে পারেন।
ওসি আরও বলেন, মামলার অন্যতম আসামি মেস ম্যানেজার মেহেদীকে গ্রেফতার করা গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।





