দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রাপ্য টাকার জন্য অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আশার বার্তা আসছে। এ মাসেই অবসরসুবিধার একাংশ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার—যাতে অন্তত কিছু টাকা দ্রুত হাতে পৌঁছায়।
আপাতত দেওয়া হবে যে টাকার অংশ

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে যে টাকা কেটে রাখা হয়েছিল—সেই অর্থের অংশ এখন ফেরত দেওয়ার পথে যাচ্ছে। তবে পুরোটা একসঙ্গে নয়। আপাতত আবেদনকারী অবসরপ্রাপ্ত প্রায় সবাইকে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধার একাংশ দেওয়া হবে। বাকি টাকা পরে, আবেদনগুলোর ক্রমিক অনুযায়ী ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।
সর্বোচ্চ কত টাকা মিলতে পারে
অবসরসুবিধার ক্ষেত্রে আপাতভাবে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে কল্যাণসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গ্রেডভেদে পরিমাণ কমবেশি হবে।
কারা পাবেন সুবিধা—আবেদনের সময়সীমা মিলিয়ে
কল্যাণসুবিধার জন্য গত ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন করেছেন—এমন শিক্ষক-কর্মচারীরা এই সুবিধা পাবেন। আর অবসরসুবিধার জন্য সুবিধাভোগী হতে হলে ৩১ জুলাই পর্যন্ত আবেদন থাকতে হবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করা ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়ার কাঠামো করা হয়েছে।
অনেকের অপেক্ষা কমাতে মোট কত জন ও কত অর্থ
সূত্র অনুযায়ী, এবার অবসরসুবিধার সুবিধা পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। এ জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এছাড়া কল্যাণসুবিধা দেওয়ার জন্য ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে অর্থ দেওয়া হবে, যেখানে ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা।
শিক্ষকসমাজের প্রত্যাশা—বাকি টাকাও দ্রুত
দেশজুড়ে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ অবসরের পরও মাসের পর মাস অর্থের অপেক্ষায় ছিলেন। এখন আংশিক টাকা হাতে পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাঁরা। একই সঙ্গে, বাকি অর্থও যেন দ্রুত দেওয়া হয়—এ প্রত্যাশা জোরালো।
এ সুবিধা চালুর কার্যক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট ও বোর্ডের সমন্বয় থাকছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণসুবিধা ও অবসরসুবিধার অর্থ দুই পৃথক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
প্রবাসী শিক্ষক পরিবারের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসে থাকা অনেক পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীও শিক্ষক হয়ে থাকেন। অবসর বা কল্যাণসুবিধার টাকার দ্রুত প্রাপ্তি মানে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচ, চিকিৎসা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্বস্তি আসা। তাই এই পদক্ষেপের প্রভাব অনেকের জীবনেই সরাসরি পড়বে।
কয়েকটি প্রশ্ন—উত্তর
এই উদ্যোগে কারা পাবেন সুবিধা?
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীরাই এই আংশিক সুবিধা পাবেন।
পুরো টাকা কি একসঙ্গে দেওয়া হবে?
না। আপাতত অবসরসুবিধার একাংশ দেওয়া হবে। বাকি টাকা আবেদনগুলোর ক্রমিক অনুযায়ী পরে দেওয়া হবে।
কল্যাণসুবিধার আবেদনের শেষ দিন কত?
গত ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন থাকলে কল্যাণসুবিধা পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: Prothomalo.com









