GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / ফ্যাটি লিভারের চর্বি কমাতে হাঁটার কতটা ভূমিকা, জানালেন বিশেষজ্ঞ

ফ্যাটি লিভারের চর্বি কমাতে হাঁটার কতটা ভূমিকা, জানালেন বিশেষজ্ঞ

ফ্যাটি লিভারের চর্বি কমাতে হাঁটার কতটা ভূমিকা, জানালেন বিশেষজ্ঞ

বর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর আধুনিক নাম মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)। স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের সঙ্গে এই সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।

অনেকের প্রশ্ন, শুধু নিয়মিত হাঁটলেই কি ফ্যাটি লিভার কমানো সম্ভব? ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান ড. রমেশ গর্গের মতে, নিয়মিত হাঁটা লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর সবচেয়ে ভালো ফল পেতে হাঁটার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রাতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

হাঁটা কীভাবে ফ্যাটি লিভার কমাতে সাহায্য করে?

হাঁটা একটি মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম। নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের পেশি বেশি গ্লুকোজ ও শক্তি ব্যবহার করে। এতে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতা কমাতে পারে।

বিশেষ করে ব্রিস্ক ওয়াকিং বা দ্রুত হাঁটা শরীরের ক্যালরি খরচ বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি, মেটাবলিক সমস্যা এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

হাঁটার আরেকটি সুবিধা হলো, এটি তুলনামূলকভাবে সহজ এবং বেশির ভাগ মানুষ নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে শুরু করতে পারেন।

প্রতিদিন কতক্ষণ হাঁটা উচিত?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে সপ্তাহে ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রমের পরামর্শ দেন।

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করা উপকারী হতে পারে। তবে যারা দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, তাদের অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ানো ভালো।

লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার, খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটা কিংবা কাজের ফাঁকে হাঁটার মতো ছোট অভ্যাসও দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে পারে।

শুধু হাঁটলেই কি ফ্যাটি লিভার ভালো হয়?

শুধু হাঁটাকে ফ্যাটি লিভারের একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। হাঁটার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরীরের ওজনের প্রায় ৫ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারে জমে থাকা চর্বি কমতে পারে। আর প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমাতে পারলে লিভারের প্রদাহ ও শুরুর দিকের ক্ষতি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ওজন দ্রুত কমছে না বলেও হাঁটার অভ্যাস বাদ দেওয়া উচিত নয়। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন জরুরি

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে হাঁটার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। শাকসবজি, ফলমূল, হোল গ্রেইন এবং চর্বিহীন প্রোটিন বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

হাঁটার পাশাপাশি সপ্তাহে কয়েক দিন হালকা রেজিস্ট্যান্স বা পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করলে শরীরের গ্লুকোজ ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন

ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চ কোলেস্টেরলের সম্পর্ক রয়েছে। তাই এসব সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমও সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভার কেন গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার?

ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। কিন্তু দীর্ঘদিন সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে লিভারে প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি হয়ে ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এবং গুরুতর ক্ষেত্রে লিভার ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় লিভার পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শের মূল বক্তব্য হলো, নিয়মিত হাঁটা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী একটি অভ্যাস। তবে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে ভালো ফল পেতে হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাবার, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যা নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ।

Social Icons