বাবা-মা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন? সুস্থ গর্ভাবস্থা ও ভবিষ্যৎ সন্তানের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার প্রস্তুতি শুরু করা উচিত গর্ভধারণের আগেই। এ ক্ষেত্রে শুধু বড় ধরনের জীবনযাত্রার পরিবর্তন নয়, প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
মদপান, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ, দাঁত ও মুখের পরিচর্যায় অবহেলা এবং ধূমপানের মতো অভ্যাস প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে সন্তান নেওয়ার আগে যেসব অভ্যাস বর্জন বা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
১. সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে মদপান এড়িয়ে চলুন
গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন নারী এবং গর্ভবতীদের জন্য মদপান এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল গ্রহণ অনাগত শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া প্রজননস্বাস্থ্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতির সময় থেকেই মদপানের অভ্যাস থাকলে তা বন্ধ করার বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
২. অতিরিক্ত চা-কফি পান নিয়ন্ত্রণ করুন
অনেকের দিন শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের অভ্যাস থাকলে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার সময় তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
চা, কফি এবং ক্যাফেইনযুক্ত অন্যান্য পানীয় থেকে শরীরে ক্যাফেইন প্রবেশ করে। গর্ভধারণের প্রস্তুতি ও গর্ভাবস্থায় কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।
তাই প্রতিদিনের চা-কফি পানের পরিমাণ খেয়াল করুন। গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকের কাছ থেকে উপযুক্ত পরামর্শ নিন।
৩. দাঁত ও মুখের যত্নে অবহেলা করবেন না
দাঁত ও মাড়ির সুস্থতা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেই দৈনন্দিন ব্যস্ততায় দাঁত ও মুখের পরিচর্যায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না। তবে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার সময়ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা, দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উপকারী অভ্যাস।
প্রতিবেদনে মুখ ও দাঁতের অযত্নের সঙ্গে পুরুষের শুক্রাণুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব এবং অপরিণত শিশুর জন্মের ঝুঁকির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই দাঁত বা মাড়িতে সমস্যা থাকলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
৪. ধূমপান ত্যাগ করুন
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ধূমপান ত্যাগ করা গুরুত্বপূর্ণ। সিগারেটের নিকোটিনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধূমপান নারীদের ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদন ও কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই হরমোন নারীদের প্রজননপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে ধূমপানের অভ্যাস গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং প্রজনন চিকিৎসার ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে পারে।
তাই সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করার সময় ধূমপান ছাড়ার উদ্যোগ নিন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা ধূমপান ত্যাগে সহায়তাকারী স্বাস্থ্যসেবার পরামর্শ নিতে পারেন।
সন্তান নেওয়ার আগে কী করবেন?
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে দৈনন্দিন জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার দিকে নজর দিন। মদপান ও ধূমপান এড়িয়ে চলা, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং দাঁত ও মুখের পরিচর্যা বজায় রাখা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করলে নিজের স্বাস্থ্য, চলমান ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাই আগে থেকেই নিজের স্বাস্থ্য ও জীবনযাপনের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। মদপান, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, মুখের স্বাস্থ্য অবহেলা এবং ধূমপানের মতো অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ বা ত্যাগের উদ্যোগ সুস্থভাবে গর্ভধারণের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে।
কোনো অভ্যাস প্রজননস্বাস্থ্যে কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অবলম্বনে।









