রোজারিও সফরটা এবার ম্যাচের জন্য নয়, ছুটির জন্যও নয়। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই ব্যক্তিগত বিমানে ফোর্ট লডারডেল থেকে রওনা দিয়েছেন লিওনেল মেসি—লক্ষ্য শুধু পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শোক সামলানো।
বিশ্বকাপের পর রোজারিও—তারপর এবার চিরতরে হারানোর শোক

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও হোর্হের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। তাই দল নিয়ে দেশে না ফিরে মেসি সরাসরি রোজারিও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, এমনকি ভাই মাতিয়াসের সভাপতিত্বে থাকা লিওনেসেও গিয়েছিলেন তিনি।
এরপর নিজের প্রিয় কাজে—ফুটবলে ফিরতে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। মাঠে ফিরে গোলও করেছেন, জিতেছেন ম্যাচ। কিন্তু এবার যে খবরটা এলো, তা তিনি কখনোই শুনতে চাননি। বাবা হোর্হের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই তার সিদ্ধান্ত বদলে যায়—সবকিছুর আগে পরিবারের পাশে থাকা।
ফোর্ট লডারডেল থেকে ব্যক্তিগত বিমানে রওনা
শুক্রবার নিজের এক সন্তানের ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন মেসি। স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছেন, ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল—চিরচেনা মানুষটিই। তবে এর কিছুক্ষণ পরই বদলে যায় পরিস্থিতি। বাবা মারা গেছেন—এমন খবর পাওয়ার পর মেসি এখন ফোর্ট লডারডেল থেকে রোজারিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গভীর রাতে সেখানে পৌঁছানোর কথাও বলা হয়েছে।
মায়ের সেলিয়া, ভাই-বোন—পুরো পরিবারকে ঘিরেই উদ্দেশ্য
এবারের সফর কোনো উৎসব বা আনন্দের জন্য নয়। মায়ের সেলিয়া, ভাই-বোন এবং পুরো পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অপূরণীয় শোকটা সামলানোই তার একমাত্র উদ্দেশ্য। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। পরিবারকে নিয়ে কঠিন সময়টা কীভাবে পার করা যায়—নিজ শহর ও আপনজনদের ভরসাতেই তিনি সেই চেষ্টা করবেন।
হোর্হে শুধু বাবা ছিলেন না—ক্যারিয়ারের ভরসাও ছিলেন
মেসির জীবনে হোর্হের উপস্থিতি মানে ছিল অনেক কিছু। স্পেনের বার্সেলোনার দিন থেকে শুরু করে প্যারিস, পরে মায়ামির পথে—বাবা ছিলেন তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠের বাইরের সিদ্ধান্ত, ক্যারিয়ারের বড় মুহূর্ত, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়েও পাশে থাকার ভরসা ছিলেন হোর্হে। মেসির নিজের কথাতেও ফুটে উঠেছে—ছোটবেলায় রাতে কাজ শেষে বাবার ফেরার অপেক্ষার কথাই।
এখন সেই মানুষটি নেই। বিশ্বকাপের পর যে রোজারিওতে বাবার পাশে থাকার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই শহরেই এবার ফিরছেন তাকে চিরতরে হারানোর শোক নিয়ে। নিজের স্মৃতিকে বুকে নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার দায়িত্বটা এখন তার।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
এমন খবর প্রবাসে থাকা মানুষের মনেও নড়া দেয়। দূরে থাকলেও আপনজনের টান, সময়মতো দেখা না হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা—এসবই আমাদের দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে মিলেমিশে যায়। মেসির এই রোজারিও সফর তাই শুধুই খেলাধুলার খবর নয়; পরিবারের প্রতি টান, শোকের মুহূর্তে কাছাকাছি থাকার মানবিক বার্তাও হয়ে ওঠে।
মেসি কেন এখন রোজারিও যাচ্ছেন?
বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে—শোক সামলানোর উদ্দেশ্যেই তার রোজারিও সফর।
এবার সফর কি ম্যাচ বা ছুটির জন্য?
না। ম্যাচ, ছুটি বা উৎসবের জন্য নয়—শুধু পরিবারের পাশে থাকার জন্য।
তার সঙ্গে কারা আছেন?
তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো রয়েছেন তার সঙ্গে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









