‘ইছামতী’ শুধু একটি নদীর নাম নয়—এই কথাটাই যেন ঘুরে ফিরে এডাস্ট বন্ধুসভার পাঠচক্রে উঠে এল। উপন্যাসের ভেতর দিয়ে নদীর বহমানতা, গ্রামের মানুষের সরল জীবন, আর নীলকুঠির শোষণের নির্মম বাস্তবতা একসঙ্গে ধরার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা।
নদীকেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির ছবি

রোববার, ৮ আগস্ট সকাল ১১টায় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত পাঠচক্রে বন্ধুরা ‘ইছামতী’ উপন্যাসের চরিত্রদের দৃষ্টিভঙ্গি ধরে আলোচনা করেন। ইছামতী নদী কীভাবে মানুষের সুখ–দুঃখ, পরিবর্তন আর জীবনের বহমানতার প্রতীক হয়ে উঠেছে—সেই জায়গাটাই তাঁরা বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
নীলকুঠির অত্যাচার ও সামাজিক সংকট
আলোচনায় আসে নীলকুঠির অত্যাচার, কুঠিয়ালদের শোষণ এবং সামাজিক বাস্তবতার টানাপোড়েন। নদীতীরবর্তী মোল্লাহাটি গ্রামের মানুষের সরল জীবন যেমন উঠে আসে, তেমনি নীলচাষের পেছনের ইতিহাসও পাঠকদের চোখে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা বলেন—এখানেই উপন্যাসের শক্তি, যা সমাজের ভাঙাগড়া বোঝাতে সাহায্য করে।
ভবানী প্রামাণিকের ভাবনা ধরেই গল্পের গভীরতা
পাঠচক্রে উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র ভবানী প্রামাণিককে ঘিরেও আলোচনা হয়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে শান্ত জীবনযাপন করেও নীলকুঠির অত্যাচার ও সমাজের নানা অবিচার তাঁকে ব্যথিত করে—এই দ্বন্দ্বের ভিতর দিয়ে লেখক প্রকৃতি ও জীবনের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি তখনকার সামাজিক সংকটও তুলে ধরেছেন বলে মত আসে।
সাহিত্যচর্চায় সত্যকে ধরার সুযোগ
এডাস্ট বন্ধুসভার পাঠচক্রে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা মনে করেন, সাহিত্যচর্চা শুধু গল্পের আনন্দ নয়—ঊনবিংশ শতাব্দীর সামাজিক বাস্তবতা ও মানবজীবনের গভীর সত্য বোঝারও পথ। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সমাজ বাস্তবতা, কুঠিয়ালদের শোষণ এবং প্রকৃতির শান্ত-স্নিগ্ধ রূপ মিলেই ‘ইছামতী’কে আলাদা করে তোলে।
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক ফারাবী আনাছ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশরাত জেরিন, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জান্নাতুল নাঈম, দপ্তর সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক তানভীর আহমেদ, সাংগঠনিক সদস্য মিথিলাসহ অন্য সদস্যরা।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন জরুরি
আপনি যেখানে থাকুন না কেন, দেশের মাটির ইতিহাস আর মানুষের জীবনসংগ্রামকে জানা মানে নিজের শেকড়কে কাছ থেকে দেখা। ‘ইছামতী’–র মতো গল্প সেই দূরত্ব কমায়—এমনটাই বলছে পাঠচক্রের আলোচনা।
প্রশ্নোত্তর
পাঠচক্রে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে? ‘ইছামতী’ উপন্যাসের চরিত্র, ইছামতী নদীকেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবন, নীলকুঠির শোষণ এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য।
কোথায় অনুষ্ঠিত হয়? অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে।
উপন্যাসটি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে? নদী, মানুষ ও তৎকালীন সমাজ বাস্তবতার এক নিখুঁত চিত্রায়ন হিসেবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: bondhushava.com









