রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা উদ্যোগ ও অভিযান চালানোর পরও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমছে না। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, মারামারি এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধে কিশোরদের কয়েকটি গ্রুপের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, এসব গ্রুপের পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু এলাকায় গ্যাংগুলোর আশ্রয়দাতা বা নিয়ন্ত্রণকারীদের পরিচয়ে পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের একটি বড় অংশ আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে।
মোহাম্মদপুরে বেড়েছে কিশোর গ্যাং
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোহাম্মদপুরে পুলিশের তালিকায় কিশোর গ্যাং ছিল ১৩টি। বর্তমানে তালিকাভুক্ত গ্রুপের সংখ্যা বেড়ে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় থাকার তথ্যও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
নবোদয় হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, চন্দ্রিমা হাউজিং, একতা হাউজিং, চাঁদ উদ্যান, বসিলা, রায়েরবাজার, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড ও আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব গ্রুপের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরে এক অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এর কয়েক দিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর সাদেক খান রোডে এক ব্যবসায়ী ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা সামনে আসে।
উত্তরায়ও সক্রিয় একাধিক গ্রুপ
উত্তরার আবদুল্লাহপুর, ৭ ও ৯ নম্বর সেক্টর, রাজলক্ষ্মী, আজমপুর, দক্ষিণখান ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবদুল্লাহপুর এলাকায় প্রিন্স গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায় বিগবস, দে লাড়া, দেওয়ান, সিনহা, নুর খান ও হৃদয় বাহিনীসহ বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতার কথা প্রতিবেদনে এসেছে।
তবে এসব গ্রুপ ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সবগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
মিরপুরেও রয়েছে একাধিক গ্রুপ
মিরপুর-১১, বাউনিয়া বাঁধ, লালমাটিয়া ও পলাশনগর এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন ব্যবসাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের তৎপরতা রয়েছে। পুলিশের তালিকায় থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বেড়েছে
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর কিশোর গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে পুলিশের তালিকাভুক্ত সদস্যের সংখ্যাও বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে পুলিশের তালিকায় প্রায় ২ হাজার কিশোর গ্যাং সদস্যের নাম থাকলেও বর্তমানে এই সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোর গ্রুপের সংখ্যা দেড় শতাধিক হলেও বাস্তবে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বড় অভিযানের কথা পুলিশের
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।
তিনি একই সঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও সামাজিক পরিবেশের বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের নজর রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং পরিবার ও সমাজের সচেতনতা একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








