চীনে চীনে বিদেশে পড়া—এই প্রবণতায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা যাচ্ছে। আগে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় মানেই গর্ব, সুযোগ আর ভবিষ্যৎ; এখন অনেক পরিবারের হিসাব বদলাচ্ছে।
গর্বের জায়গায় প্রশ্ন

বেইজিংয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে পরামর্শ দেন ইয়াং ফান। তিনি বলছেন, পনেরো বছর আগে শিক্ষার্থীরা আলাদা মর্যাদা পেত। কিন্তু এখন বাবা-মায়ের প্রশ্ন অন্যরকম—দেশের বিশ্ববিদ্যালয় যদি খারাপ না হয়, তবে কেন এত খরচ করে সন্তানকে বিদেশে পাঠানো?
খরচ ও অনিশ্চয়তা—দুই চাপ
চীনের মানুষ যত বেশি বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তত বেড়েছে বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। তবে ২০১৯ সালের পর পরিস্থিতি দ্রুত ঘুরে যায়। করোনা মহামারি, বাণিজ্যযুদ্ধ এবং চীন ও পশ্চিমাদের মধ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিদেশে পড়ার পথকে কঠিন করে তোলে।
২০২৫ সালে প্রায় পাঁচ লাখ সত্তর হাজার চীনা তরুণ বিদেশে পড়তে গেছেন—যা ২০১৯ সালের তুলনায় কম। এর মানে, ছয় বছরের ব্যবধানে বিদেশগামী শিক্ষার্থীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে। আরও বলা হচ্ছে, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়ার সংখ্যা ২০১৬ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন।
ভিসা জটিলতায় চাকরির হিসাবও বদল
কিছু দেশে বিদেশে পড়ার সুযোগ আরও অনিশ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের পক্ষ থেকে চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা কঠোরভাবে বাতিলের কথা বলা হয়। বিশেষ করে কিছু বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বেশি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে দক্ষ কর্মীদের থাকার গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বলা হয় এইচ-১বি ভিসা। বেতনকে গুরুত্ব দেওয়ার নীতিও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের সুযোগ আরও চাপে ফেলতে পারে—ফলে অনেকে আগে থেকেই সম্ভাবনার দরজা বন্ধ হতে দেখছেন।
তাই দেশেই ফিরছে অনেকে
ভিসা জটিলতার কারণে চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত চীনে ফিরে আসার উদাহরণও এসেছে। এতে বার্তা স্পষ্ট—বিদেশে পড়া শুধু ভর্তি নয়, পরের ধাপের নিরাপত্তা ও বাস্তব সুযোগও বড় বিষয়।
চীনের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিউ ওরিয়েন্টালের এক জরিপে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বিদেশে পড়ার গড় খরচ বেশ উচ্চ পর্যায়ে। ফলে অনেক পরিবার এখন বিকল্প খোঁজে, যেখানে টাকা-সময়-ভবিষ্যৎ—সবকিছুর হিসাব সহজ হয়।
প্রবাসী পাঠকের জন্য মানে কী?
চীনের এই পরিবর্তন আমাদের মতো দেশে-বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠানোর সিদ্ধান্তে এক ধরনের বাস্তব বার্তা দেয়। উচ্চশিক্ষা মানে শুধু পড়াশোনা নয়—ভিসা, কাজের পথ, খরচের চাপ—সবই বিবেচনায় আসে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও সন্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এই ধরনের সতর্ক হিসাব আরও জরুরি হয়ে ওঠে।
সংক্ষেপে প্রশ্ন-উত্তর
প্রশ্ন: কেন চীনে বিদেশে পড়ার আগ্রহ কমছে?
উত্তর: ভিসা অনিশ্চয়তা, চাকরির পথের জটিলতা এবং খরচের চাপ—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে প্রভাব ফেলছে।
প্রশ্ন: ২০১৯ সালের পর কী বদল হলো?
উত্তর: করোনা, বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় বিদেশে পড়ার পথ কঠিন হয়ে যায়।
প্রশ্ন: তাহলে এখন চীনে কী বাড়ছে?
উত্তর: অনেক পরিবার দেশেই উচ্চশিক্ষার দিকে ঝুঁকছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









