এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্কে শিক্ষামন্ত্রী সরাসরি বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ক্ষমতা এনটিআরসিএ থেকে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক তীব্র হয়। এক পক্ষ দাবি তুলেছে—বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর বাইরে নিয়ে গিয়ে ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এমন আলোচনার মধ্যেই শিক্ষার্থী পরিচয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের ঘটনাও নজরে আসে।
ফেসবুকে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানান, সরকার এখনো এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিরোধী দল-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সমালোচনার মুখে সরকার-সমর্থকদের দিক থেকেও পাল্টা পোস্ট করতে দেখা যায় এবং গুজব-অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বর্তমান প্রক্রিয়া কীভাবে চলছে
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হয় এনটিআরসিএর (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) অধীনে পরীক্ষা এবং সুপারিশের ভিত্তিতে। তবে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কর্মচারী পদে নিয়োগ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে হয়ে আসার কথা উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক সভা ও বিতর্কের সূত্র
সাম্প্রতিক সময়ের এক সভার কার্যবিবরণী ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়। ওই সভায় এনটিআরসিএর কার্যপরিধি নিয়ে আলোচনা উঠে আসে—‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে, নিয়োগ সুপারিশ করবে না—এমন ব্যাখ্যার কথাও আলোচনায় এসেছে।
দাবি—বাকি ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে
সভায় এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রমের অচলাবস্থা নিরসনে পুরোনো কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম চালিয়ে—প্রত্যয়ন করা শিক্ষকদের নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে দেওয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান সম্ভব—এমন অভিমতও বলা হয়েছে। এখান থেকেই এনটিআরসিএর বাইরে নিয়োগ ক্ষমতা যাবে—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই খবরটি গুরুত্ব পায় অন্যভাবে। দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন হলে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়োগ প্রত্যাশী পরিবারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ভাবনা—সবই সরাসরি প্রভাবিত হয়। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে তাই আপাতত নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার আভাস মিলল।
প্রশ্ন-উত্তর
শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা নিয়ে কি এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে?
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এখনো সরকার এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এনটিআরসিএর ভূমিকা বর্তমানে কী?
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর পরীক্ষা ও সুপারিশের ভিত্তি কাজ করে।
বিতর্কের মূল কারণ কী দাঁড়িয়েছে?
সভা সংক্রান্ত কার্যবিবরণী ছড়িয়ে পড়ে এবং এখান থেকে নিয়োগ ক্ষমতা বদলাবে—এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









