শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সরব হয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের দাবি, এই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলে মেধার মূল্যায়ন ভেঙে পড়বে এবং নিয়োগে অস্বচ্ছতা বাড়ার পথ খুলবে।
ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষা খাতকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দেবে। তারা বলছেন, এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নিয়োগে অনেকাংশেই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
কেন কেন্দ্রীয় সুপারিশ জরুরি
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সুপারিশের ফলে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীরা একসঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিক্ষকতায় প্রবেশের সুযোগ পেতেন। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হওয়ার পথ পায়।
আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে ঘুরতে হবে চাকরিপ্রার্থীদের
সংগঠনটির মতে, এনটিআরসিএকে কেবল সনদ প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে নিয়োগের ক্ষমতা স্থানীয় কমিটির হাতে ফিরিয়ে দিলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। তখন চাকরিপ্রার্থীদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ঘুরতে হবে। একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা করছেন নিয়োগে অর্থ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়বে।
অঞ্চলভিত্তিক নিয়োগের যুক্তি নিয়ে ব্যাখ্যা
এক অঞ্চলের প্রার্থী অন্য অঞ্চলে নিয়োগ পেতে সমস্যা হতে পারে—এ যুক্তি নিয়েও তারা জোরালো অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আবেদন করার সময় প্রার্থীরা নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। তাদের মতে, এ সমস্যার সমাধান কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিল না করেই প্রশাসনিক সমন্বয় এবং কার্যকর বদলি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে করা যায়।
অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার দাবি ও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এনটিআরসিএ সুপারিশ বহাল রেখে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে ছাত্রসমাজ ও চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা এবং রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
প্রবাসী শিক্ষকপ্রার্থীসহ দেশের চাকরিপ্রত্যাশী মানুষজনের জন্য এই বিতর্ক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার প্রতিযোগিতা টিকে থাকলে কর্মজীবনের ভবিষ্যৎও স্থির থাকে।
প্রশ্নোত্তর
এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কারা প্রতিবাদ করছে?
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিবাদ করছে।
তাদের প্রধান অভিযোগ কী?
তারা বলছে, ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ফিরিয়ে দিলে নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও স্বজনপ্রীতি বাড়তে পারে।
সমাধান হিসেবে তারা কী প্রস্তাব করেছে?
কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিল না করে প্রশাসনিক সমন্বয় ও কার্যকর বদলি নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









