উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষাকে আরও মানসম্মত ও ব্যবহারবান্ধব করতে স্থায়ী ভাষাতাত্ত্বিক কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। একই শব্দের একাধিক পরিভাষা চালু থাকায় পাঠকের মধ্যে বিভ্রান্তিও বাড়ছে—এমন পর্যবেক্ষণের কথা শোনা গেল রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে।
প্রযুক্তিবান্ধব ফন্ট ও পরিভাষায় সমন্বয়ের কথা

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বাংলা ভাষার সঠিক প্রমিতকরণ, প্রযুক্তিবান্ধব ফন্ট তৈরি এবং পরিভাষার বৈজ্ঞানিক সমন্বয় সাধনে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের উদ্যোগে ‘প্রমিত স্টাইল গাইড বক্তৃতা-৩’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় তুলে ধরেন আয়োজক ও বক্তারা।
উচ্চশিক্ষা এখনো ইংরেজি মাধ্যমেই ঝুঁকে আছে
প্রধান বক্তা হিসেবে সাজ্জাদ শরিফ বলেন, উচ্চশিক্ষা বাংলা মাধ্যমে না হওয়াটা জাতীয় জীবনের একটি বড় পশ্চাৎপদতা। স্বাধীনতার পর যে প্রত্যাশা ছিল বিজ্ঞান ও সমাজবিদ্যার বই বাংলায় অনুবাদ হয়ে উচ্চশিক্ষায় বাংলা শক্ত ভিত্তি পাবে, বাস্তবে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পরিভাষার প্রয়োজনীয়তাও যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি।
একই শব্দে একাধিক পরিভাষা—বিভ্রান্তির কারণ
তিনি আরও বলেন, দেশে একই শব্দের একাধিক পরিভাষা ব্যবহৃত হচ্ছে। পাঠকসমাজে এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি—কোনটি গ্রহণযোগ্য মান, সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানে নিয়মিত নতুন শব্দ ও পরিভাষা নথিবদ্ধ করে প্রমিত মান নির্ধারণ করতে স্থায়ী ভাষাতাত্ত্বিক ‘বডি’ বা কমিশন থাকা দরকার বলেও মত দেন তিনি।
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা সংস্কারে গুরুত্ব
সেমিনারে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম পাঠ্যপুস্তকের ভাষা সংস্কারের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, নবম-দশম শ্রেণির ধর্মীয় পাঠ্যপুস্তকের ভাষা আগে যেমন ছিল, এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বিশেষভাবে, কৃত্রিমভাবে সরাসরি আরবি শব্দ যোগ করে ভাষার স্বাভাবিক রূপ নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ঐতিহাসিকভাবে আরবি শব্দের সরাসরি আগমন নয়—ফারসি ও হিন্দুস্তানির পথ ধরে বাংলা ভাষায় প্রবেশের কথাও তুলে ধরেন।
প্রবাসীদের জন্য কেন এটি জরুরি
প্রমিত পরিভাষা আর প্রযুক্তিবান্ধব বাংলা মানে হয়—দেশের বাইরে থেকেও বাংলা কনটেন্ট, লেখা, পড়াশোনা ও কাজের নথিতে একই ভাষার নিয়ম অনুসরণ করা সহজ হয়। উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বাংলা টিকে থাকলে প্রবাসী শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীর ভবিষ্যৎ সুযোগও বিস্তৃত হয়।
প্রশ্নোত্তর
বাংলা প্রমিতকরণ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে?
পরিভাষা, প্রতিবর্ণ, ফন্ট ও ব্যবহারক্ষেত্রভেদে বাংলা ভাষার মানদণ্ডকে একভাবে স্থির করার কথা বলা হচ্ছে।
স্থায়ী ভাষাতাত্ত্বিক কমিশন কেন দরকার?
নতুন শব্দ ও পরিভাষা নিয়মিত নথিবদ্ধ করা এবং প্রমিত মান নির্ধারণে ধারাবাহিকতা আনার জন্য।
এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের কীভাবে সাহায্য করবে?
একই বিষয়ে একাধিক পরিভাষা ও ভাষার অসামঞ্জস্য কমে পাঠ্য বোঝা সহজ হবে এবং উচ্চশিক্ষায় বাংলা ব্যবহারের ভিত শক্ত হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









