GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষক নিয়োগে জামায়াতের আশঙ্কা

ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষক নিয়োগে জামায়াতের আশঙ্কা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতার প্রতীকী চিত্র

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া হলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুস-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র আবার সক্রিয় হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কড়া নিন্দা ও প্রতিবাদও জানিয়েছে দলটি।

শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির দাবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতার প্রতীকী চিত্র

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ৩ আগস্ট এনটিআরসিএ’র সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

দলীয় প্রভাব ও ঘুস-বাণিজ্যের আশঙ্কা

জামায়াতের ভাষ্য, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বাড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেও নিয়োগ বাণিজ্য পুনরায় ফিরে আসতে পারে।

এনটিআরসিএ পদ্ধতির যুক্তি তুলে ধরা

অন্যদিকে দলটি বলছে, এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের বিদ্যমান প্রক্রিয়া যোগ্যতা, মেধা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে নিজ যোগ্যতায় নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও অনেকাংশে নিশ্চিত থাকে বলে তাদের বক্তব্য। পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদাও বাড়ে বলেও বলা হয়েছে।

বাতিলের দাবি, বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব

জামায়াত মনে করছে, বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করে এটিকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পথ না নিয়ে যদি আবার ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ অতীতের মতো ফিরে আসতে পারে। বিশেষ করে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ সামনে আসতে পারে—এমন কথাও বলা হয়েছে।

তাই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করার উদ্যোগ বাতিল করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি বিদ্যমান এনটিআরসিএ নিয়োগব্যবস্থাকে আরও নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পিএসসির মতো একটি স্বাধীন কাঠামোর মাধ্যমে প্রক্রিয়া পরিচালনার ধারণাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রবাসে থাকা পরিবারের জন্য শিক্ষা মানের সঙ্গে চাকরি-আয়-ভবিষ্যৎ সবই সম্পর্কিত। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা কমলে শিক্ষার্থীদের শেখা-ভাল ফল থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানগুলোর মান—সবকিছুর ওপরই প্রভাব পড়ে। তাই নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এই বিতর্কে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

জামায়াত ঠিক কী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে?
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দিলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব বাড়তে পারে।

এনটিআরসিএ পদ্ধতি নিয়ে তাদের অবস্থান কী?
তাদের দাবি, এনটিআরসিএ’র প্রক্রিয়া মেধা ও প্রতিযোগিতাকে গুরুত্ব দেয় এবং স্বচ্ছতা-জবাবদিহি বাড়ায়।

জামায়াতের চাওয়া কী?
ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ বাতিল এবং বিদ্যমান প্রক্রিয়াকে আরও নিরপেক্ষ করতে পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons