GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রবাসের খবর / মধ্যপ্রাচ্য / সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে শ্যামল উদ্দিনের মৃত্যু

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে শ্যামল উদ্দিনের মৃত্যু

সৌদির রিয়াদের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিকের শোক

সৌদিতে কাজ করতে গিয়ে থেমে গেল রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝির স্বপ্ন। রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হন—যেদিন তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশে ফিরবেন।

রোববার রাতে হওয়া ওই দুর্ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত শ্যামল উদ্দিন বাগমারার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ আট বছর ধরে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

দেশে ফেরার প্রস্তুতি, শেষ হলো প্রবাস জীবন

সৌদির রিয়াদের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিকের শোক

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে আট বছর আগে ঋণ ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে শ্যামলকে সৌদি পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তিনি দেশে আর ফিরতে পারেননি। তবে এবার তিনি জমানো কিছু টাকা নিয়ে পরিবারের কাছে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

শেষ কথা বলেছিলেন—এক সপ্তাহের মধ্যেই

শোকাহত স্ত্রী রশিদা খাতুন জানান, রোববার সকালে শ্যামলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। ওই সময় শ্যামল জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। এরপরই রাতের দিকে মৃত্যুর খবর পান পরিবার।

বাড়িতে শোকের মাতম, আর্থিক সংকটে পরিবার

শ্যামলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার বাড়িতে নেমে আসে শোকের মাতম। স্বজনরা আহাজারি করছেন, প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শ্যামল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন—তার তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে এখনো পড়াশোনা করছে।

দ্রুত মরদেহ ফেরানো এবং সহায়তার আহ্বান

ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, শ্যামলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সরকার দ্রুত সময়ে মরদেহ ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং স্বজনদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য বার্তা

ঘটনাটি প্রবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাস্তবতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে—কাজের নিরাপত্তা, যোগাযোগের শেষ মুহূর্ত, আর দেশে ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তা। শ্যামলের মতো মানুষদের জন্য দ্রুত সহায়তা আর দায়িত্বশীল সমাধান নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

প্রশ্ন-উত্তর

শ্যামল উদ্দিন মাঝি কোথায় কাজ করতেন?
সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন তিনি।

পরিবারের সঙ্গে শ্যামলের শেষ কথা কবে হয়েছিল?
রোববার সকালে স্ত্রী রশিদা খাতুনের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন।

সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons