ঢাবিতে প্রাধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ ও বের করে আনা কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয় ঘিরে রাতভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, পরে পরিস্থিতি সামলাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত হন।
অবরুদ্ধ রাখার দাবিতে উত্তেজনা

ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ নিয়ে হল সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হলে রাতের দিকে পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়।
বের করে নিতে গেলে হাতাহাতি
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ছাত্রশিবিরের কর্মী এবং হল সংসদের অন্য অংশের নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে থাকায় সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
হাতাহাতিতে আহত শিক্ষার্থীরা
এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা যায়। আহতদের মধ্যে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম এবং জিএস ইমামুল হাসানও রয়েছেন। পরে আহত শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রশাসনের উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা
রাতে প্রাধ্যক্ষকে ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁদেরও প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। পরে কর্মকর্তাদের বের হয়ে আসতে দেখা যায়।
প্রক্টরকে সরাতে গেলে সংঘর্ষ
কার্যালয়ের গেটে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। এ সময় প্রক্টর ও প্রাধ্যক্ষকে বের করে নিতে চাইলে ছাত্রদল-শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ফের হাতাহাতি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধাক্কায় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরও পড়ে যান এবং পরে একদল নেতা-কর্মী প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেন।
প্রবাসী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্যও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ—কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক পরিবেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে পড়লে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনচর্চা ও ভবিষ্যৎ পড়াশোনার ঝুঁকি বাড়ে।
সংক্ষেপে: কী ঘটেছে
- প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে তাঁকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করা হয়।
- বের করে নিতে গেলে ছাত্রদল-শিবির ও হল সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
- সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রশ্ন: ঢাবির কোন হলে এই ঘটনা ঘটেছে?
উত্তর: ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে।
প্রশ্ন: আহতদের কি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রশ্ন: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছিলেন কি?
উত্তর: রাতে সহ-উপাচার্য ও প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত হন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









