রাবির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি সুযোগ খুলছে—অনার্সের প্রথম দুই বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েই পরের দুই বছর জাপানে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ‘২+২’ একাডেমিক প্রোগ্রামের আলোচনা হয়েছে। শর্ত পূরণ করলে জাপানের অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক সনদও পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
ঢাকায় রাবি-জাপান প্রতিনিধিদলের বৈঠক

রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঢাকার বনানীর হোটেল আমারি ঢাকায় রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে জাপানের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। এতে একাডেমিক সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ও গুরুত্ব পায়।
কেমন হবে ‘২+২’ কাঠামো
প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নির্ধারিত একাডেমিক যোগ্যতা ও প্রোগ্রামের কাঠামো পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা জাপানের অংশীদার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনার্সের শেষ দুই বছর পড়াশোনা করবেন। অর্থাৎ চার বছর মেয়াদি অনার্সের প্রথম দুই বছর রাবিতে, বাকি দুই বছর জাপানে।
সাফল্যের পর মিলবে আনুষ্ঠানিক সনদ
প্রোগ্রামটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে শিক্ষার্থীরা জাপানের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক সনদ অর্জনের সুযোগ পাবে—যা ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা ও ক্যারিয়ার গড়তে সহায়ক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জ্ঞান বিনিময় ও গবেষণা সহযোগিতার দিকও খোলা
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থী চলাচলের নতুন ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েও কথা হয়। রাবি বলছে, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা বাড়িয়ে তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে পারে।
কারা ছিলেন বৈঠকে
জাপানের প্রতিনিধিদলে কিবিগাকুয়েন এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনের ওকায়ামা শোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ড. হিরোইউকি ইজিরি এবং প্রিফেকচারাল ইউনিভার্সিটি অব হিরোশিমার রিজিওনাল ওরিয়েন্টেড স্টাডিজের রিসার্চ অর্গানাইজেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. শিনজিরো ওগিতা উপস্থিত ছিলেন। রাবির পক্ষ থেকে রাবির অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ সাজ্জাদুর রহিম, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগ দেন।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
যারা পরিবারসহ বিদেশে থেকেও পড়াশোনা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবেন, তাদের কাছে ‘২+২’ ধরনের এই সুযোগটা বাস্তবসম্মত একটি পথ—কারণ এতে পড়াশোনার ধারা আন্তর্জাতিকভাবে সম্পন্ন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
জিজ্ঞাসা ও উত্তর
১) ‘২+২’ প্রোগ্রামে প্রথম দুই বছর কোথায়?
অনার্সের প্রথম দুই বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা হবে।
২) বাকি দুই বছর কোথায়?
শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শেষ দুই বছর জাপানের অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবেন।
৩) প্রোগ্রাম শেষ করলে কী পাওয়া যাবে?
সফলভাবে সম্পন্ন করলে জাপানের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক সনদের সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









