প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—দেশে থেকেই কর্মজীবনের প্রস্তুতি নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাকরির প্রস্তুতি ছাড়াও ভাষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা তৈরির কর্মসূচি যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
ক্যারিয়ার সেন্টারে থাকবে শুধু চাকরির প্রস্তুতি নয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, ক্যারিয়ার সেন্টার কেবল চাকরির প্রস্তুতির মধ্যে সীমিত থাকবে না। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও সক্ষমতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ভাষা, সংস্কৃতি ও সফট স্কিল—সবকিছু মিলিয়ে
প্রসঙ্গত তিনি জানান, ক্যারিয়ার সেন্টারের কার্যক্রমে ভাষা ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থাকতেও পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক নানা কার্যক্রম যোগ করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং সমস্যা সমাধানের মতো সফট স্কিল অর্জনের সুযোগ পাবে।
সময়োপযোগী কর্মমুখী শিক্ষা: এআই, ডেটা ও হসপিটালিটি
উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী এবং কর্মমুখী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নানা উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা দেশের শ্রমবাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাতেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে—এ লক্ষ্যেই নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এআই, রোবোটিকস, ডেটা সায়েন্স এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টসহ সময়ের চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার কথাও উঠে আসে।
মফস্বল-প্রত্যন্তের কলেজেও সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিপুলসংখ্যক কলেজ মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় মান ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করার কথা বলেন উপাচার্য। ক্যারিয়ার সেন্টারকে শিক্ষার্থী ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে কলেজ পর্যায়েই ক্যারিয়ার পরিকল্পনার কাঠামো শক্ত হবে—ফলে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই নিজেদের পথ বুঝে নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারবে।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
চাকরি খোঁজা বা দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি প্রবাসেও কাজে লাগে। দেশেই ক্যারিয়ারভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার চর্চা শুরু হলে ভবিষ্যৎ সুযোগ খুঁজতে সুবিধা হয়—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই নির্দেশনা।
প্রশ্নোত্তর
ক্যারিয়ার সেন্টারের উদ্দেশ্য কী?
শিক্ষার্থীদের আগ্রহ-ক্ষমতা বুঝে কর্মজীবনের জন্য পরিকল্পিত প্রস্তুতি তৈরি করা।
এটা কি শুধু চাকরির প্রস্তুতি?
না। ভাষা ক্লাব, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশের মতো কার্যক্রমও থাকবে।
ক্যারিয়ার সেন্টার কার জন্য?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









