মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নৌ অবরোধ সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি থেমে নেই।
চলতি অর্থ বছরের প্রথম চার মাসে জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৭৫০ কোটি ডলার আয় করেছে দেশটি।
শনিবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরান সরকার জানিয়েছে, মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও তারা বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
দেশটির জ্বালানি তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেল বিক্রির এই অর্থ দিয়ে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রায় করা ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।
মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের সমুদ্রপথে তেল রফতানি তীব্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান তাদের এই বড় আয়ের কথা প্রকাশ করল।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালি।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি উন্মুক্ত রেখে অবাধ জাহাজ চলাচলের দাবি জানিয়ে আসছে।
যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
তবে তেহরানের স্পষ্ট বার্তা, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না।
ইরানের শর্তের মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ছাড় করা।
একই সাথে দেশটির ওপর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব নেই।
তিনি আরও বলেন, ইরান এখন একটি প্রত্যক্ষ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তাই দেশটির সবাইকে এই কঠিন বাস্তবতা মেনে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে হবে।









