চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলেও নির্ধারিত সেপ্টেম্বরে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু সম্ভব হচ্ছে না।
এমনকি চলতি বছরের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পারমাণবিক চুল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ‘পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ’ বা পিওআরভি-এর পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থতাই এই বিলম্বের প্রধান কারণ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, ২৮০ থেকে ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উচ্চ তাপ ও চাপে ভালভটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলার কথা থাকলেও তা কাজ করছে না।
চুল্লির ভেতরের অতিরিক্ত চাপ ও তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে এই সেফটি ভালভের ভূমিকা অপরিহার্য।
পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই মূল অংশটি ঠিক না থাকলে থ্রি মাইল আইল্যান্ডের মতো বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
সমস্যাযুক্ত ভালভ দুটি মেরামত করে সমাধান না হলে বিদেশ থেকে নতুন করে বানিয়ে আনতে হতে পারে, যা হবে অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ শতভাগ কারিগরি নিরাপত্তা ও লাইসেন্স নিশ্চিত করা ছাড়া এই কেন্দ্র চালুর অনুমতি দেবে না।
রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের কারিগরি দল এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে জটিলতা দূর করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সকল নিরাপত্তা পরীক্ষা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করে চূড়ান্ত উৎপাদনে যেতে অন্তত আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।



