GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য / স্বাস্থ্য / ফিজিওথেরাপি মেডিকেল সায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ফিজিওথেরাপি মেডিকেল সায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ফিজিওথেরাপি কোনো সাধারণ ম্যাসাজ বা পার্লারসেবা নয়, বরং মেডিকেল সায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এবারের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি এবং শারীরিক কার্যকলাপের ভূমিকা’

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফিজিওথেরাপি মেডিকেল সায়েন্সের রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অসুস্থ হলে চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিস্টদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর শরীরের কোনো অংশে প্যারেসিস বা প্যারালাইসিস হতে পারে। তাদের পুনরায় সক্রিয় জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হয়। বর্তমানে হাসপাতালের পাশাপাশি কমিউনিটি ও বাড়িভিত্তিক ফিজিওথেরাপি সেবার গুরুত্বও বাড়ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন সহজ হয়।

মন্ত্রী বলেন, ফিজিওথেরাপিকে কোনোভাবেই সাধারণ ম্যাসাজ বা পার্লারের সেবার সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। এটি একটি বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয়। যথাযথ জ্ঞান ও মূল্যায়ন ছাড়া ফিজিওথেরাপি প্রয়োগ করলে রোগীর উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণ নির্ণয় না করে থেরাপি শুরু করলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ফিজিওথেরাপি পেশার মানোন্নয়নে প্রফেশনাল কাউন্সিলের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, কাউন্সিল পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করলে গুণগত মানসম্পন্ন ও প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরি হবে। একই সঙ্গে কে যোগ্য এবং কে যোগ্য নন, সেটিও সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হবে। এতে অপচিকিৎসা ও প্রতারণার সুযোগ কমবে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত ও উন্নত হচ্ছে। ফিজিওথেরাপির ক্ষেত্রেও ডিপ্লোমা থেকে চার বছর মেয়াদি স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষা চালু হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফিজিওথেরাপিকেও এগিয়ে নিতে হবে।

হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে শারীরিক কার্যকলাপের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, কখন হাঁটতে হবে, কতটুকু শারীরিক কার্যকলাপ করতে হবে কিংবা কখন বিশ্রাম নিতে হবে, তা রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। স্ট্রোকের পর রোগীর পুনর্বাসন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। প্রাথমিক চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে সময় ও নিয়মিত পুনর্বাসন প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, একজন রোগীর চিকিৎসায় চিকিৎসক একা সব কাজ করেন না। চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফিজিওথেরাপিস্টের নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। হাত ভেঙে গেলে চিকিৎসক সেটি ঠিক করতে পারেন, কিন্তু হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়া ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যায়াম ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপিস্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে স্ট্রোকের পর রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর ও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসক, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতেও প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা কেউ কারও প্রতিযোগী নই; আমরা সবাই একে অপরের পরিপূরক ও সম্পূরক।’ রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফিজিওথেরাপিস্ট নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলেই সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস শুধু একদিনের অনুষ্ঠান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো ফিজিওথেরাপিস্টদের শিক্ষা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কল্লোল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

Social Icons