GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য / জীবনযাপন / স্বাস্থ্য টিপস / কেন কিছুই ভালো লাগে না? মন খারাপ নাকি মানসিক ক্লান্তি

কেন কিছুই ভালো লাগে না? মন খারাপ নাকি মানসিক ক্লান্তি

মন খারাপ নাকি মানসিক ক্লান্তি?

সারাদিনের কাজের চাপ, একের পর এক বার্তা, শেষ না হওয়া কাজ আর নানা চিন্তার কারণে রাতে বাসায় ফিরেও যদি কিছুই ভালো না লাগে, তাহলে সেটি শুধু মন খারাপ নাও হতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘদিনের চাপ ও অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রমের কারণে তৈরি হতে পারে মানসিক ক্লান্তি।

মন খারাপ ও মানসিক ক্লান্তি কাছাকাছি অনুভূতি হলেও দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

প্রিয় মানুষের সঙ্গে মনোমালিন্য, প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, ব্যর্থতা কিংবা খারাপ কোনো খবরের মতো নির্দিষ্ট ঘটনার পর সাধারণত মন খারাপ হতে পারে।

এ সময় কান্না পেতে পারে, হতাশ লাগতে পারে কিংবা প্রিয় কাজেও সাময়িকভাবে আগ্রহ কমে যেতে পারে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে অনেক সময় মন খারাপও ধীরে ধীরে কমে আসে।

অন্যদিকে মানসিক ক্লান্তি সাধারণত দীর্ঘসময় ধরে চলা চাপ বা অতিরিক্ত মানসিক ব্যস্ততার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ অবস্থায় মনোযোগ ধরে রাখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা সাধারণ কাজ করাও কঠিন মনে হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সতেজ না লাগা এবং ছোট কাজকেও বড় বোঝা মনে হওয়া মানসিক ক্লান্তির লক্ষণ হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্ষেত্রের চাপ থেকে কর্মক্ষেত্রজনিত অবসাদ তৈরি হতে পারে। এর লক্ষণের মধ্যে অতিরিক্ত ক্লান্তি, কাজের প্রতি মানসিক দূরত্ব বা নেতিবাচক মনোভাব এবং নিজের কর্মদক্ষতা কমে যাওয়ার অনুভূতি রয়েছে।

মন খারাপ ও মানসিক ক্লান্তির মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো কারণ।

মন খারাপের পেছনে প্রায়ই কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা পরিস্থিতি থাকে। অন্যদিকে মানসিক ক্লান্তি দীর্ঘদিনের চাপ, অতিরিক্ত কাজ কিংবা মানসিক ব্যস্ততার কারণে ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে।

তবে দুটো অনুভূতি একসঙ্গেও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ একজন মানুষকে ক্লান্ত করে তুলতে পারে। সেই সঙ্গে বিরক্তি, মন খারাপ কিংবা প্রিয় কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সাময়িক মন খারাপ বা ক্লান্তি জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তবে মন খারাপ, আগ্রহহীনতা বা ক্লান্তি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এসব সমস্যা যদি কাজ, পড়াশোনা, ঘুম, সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, বিষণ্নতার ক্ষেত্রে মন খারাপ বা আগ্রহ-আনন্দ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে থাকতে পারে। এর সঙ্গে ক্লান্তি, মনোযোগ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সমস্যা, ঘুম কিংবা ক্ষুধার পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে এমন উপসর্গ থাকলে বা তা বাড়তে থাকলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সব মন খারাপ শুধু এক রাতের ঘুমে সেরে যায় না। আবার সব ক্লান্তিও শুধু বিশ্রামে দূর হয় না। কখনো কখনো মনেরও থামা, নিজের অনুভূতিকে বোঝা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যত্ন নেওয়া জরুরি।

Social Icons