GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিশেষ খবর / মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম চিকিৎসা জেনে নিন

মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম চিকিৎসা জেনে নিন

মস্তিষ্কের রক্তনালি ও ডায়াগনস্টিক স্ক্যানের চিত্র

মস্তিষ্কের রক্তনালির ফোলা অংশ হঠাৎ ফেটে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং হেমোরেজিক স্ট্রোক ডেকে আনতে পারে। এই রোগ প্রাণঘাতী—তাই মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম চিকিৎসা নিয়ে সচেতন হওয়াটাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

অ্যানিউরিজম কেন এত বিপজ্জনক

মস্তিষ্কের রক্তনালি ও ডায়াগনস্টিক স্ক্যানের চিত্র

অ্যানিউরিজম হলো মস্তিষ্কের রক্তনালির বেলুনের মতো ফোলা অংশ। ফেটে গেলে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং হঠাৎ বিপদের মাত্রা বেড়ে যায়। চিকিৎসকের ভাষায়, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ঝুঁকিতে পড়ে যান। তাই লক্ষণ দেখলেই দেরি করা যাবে না।

কারা ঝুঁকিতে থাকেন

বংশগত কারণ ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, মাথায় গুরুতর আঘাত, ধূমপান—এসব বিষয় থেকে অ্যানিউরিজম হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে জন্মগতভাবেও রক্তনালিতে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ফাটার আগে কেন বোঝা কঠিন

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যানিউরিজম ফাটার আগ পর্যন্ত স্পষ্ট লক্ষণ দেয় না। অন্য কোনো কারণে মস্তিষ্কের পরীক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময়ই এটি ধরা পড়ে। ফলে আগেভাগে শনাক্ত করা সহজ হয় না।

ফেটে গেলে যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন

অ্যানিউরিজম ফেটে গেলে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে। সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, চোখের কাছে বা পেছনে ব্যথা, অস্পষ্ট বা দ্বিগুণ দৃষ্টি দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মুখের এক পাশ অবশ বা অসাড়ও হতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই মূল।

নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার পথ

অ্যানিউরিজম শনাক্তে এনজিওগ্রামকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা বলা হয়েছে। পায়ের রক্তনালির মাধ্যমে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে ঘাড়ের রক্তনালিগুলোর পথ ধরে মস্তিষ্ক পর্যন্ত নেওয়া হয় এবং কনট্রাস্ট ডাই দিয়ে মস্তিষ্কের রক্তনালি দেখা হয়। এ ছাড়া এমআরআই, সিটি স্ক্যান এবং সিএসএফ পরীক্ষাও করা হতে পারে।

অ্যানিউরিজমজনিত রক্তক্ষরণের বিপদ মূলত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই দূর করা যায়। একটি পদ্ধতিতে কুঁচকি দিয়ে ক্যাথেটার নিয়ে মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট ধমনি পর্যন্ত গিয়ে অ্যানিউরিজমে অত্যন্ত সূক্ষ্ম তার পেঁচিয়ে ফোলা অংশে রক্ত ঢোকা বন্ধ করা হয়। অন্য পদ্ধতিতে সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছে অ্যানিউরিজমের গোড়ায় টাইটানের ক্লিপ লাগিয়ে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করা হয়।

প্রবাসী পাঠকদের জন্য বার্তা: পরিবারের যে কারও হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা বা অস্বাভাবিক দৃষ্টি-অবশভাব দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন। দ্রুত সিদ্ধান্তই বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ায়।

কয়েকটি দ্রুত প্রশ্ন

অ্যানিউরিজম কি সব সময় আগে থেকেই বোঝা যায়?
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফাটার আগে লক্ষণ থাকে না, তাই আগেভাগে ধরা কঠিন।

এনজিওগ্রাম কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এটি অ্যানিউরিজম শনাক্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিকিৎসা কি শুধু ওষুধে সম্ভব?
রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমাতে অস্ত্রোপচারকেন্দ্রিক পদ্ধতিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons