GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / মাথাব্যথা থেকে স্বস্তি পেতে কেমন সানগ্লাস পরবেন?

মাথাব্যথা থেকে স্বস্তি পেতে কেমন সানগ্লাস পরবেন?

রোদ একটু তীব্র হলেই অনেকের শুরু হয় ধকধকে মাথাব্যথা। বৃষ্টি নামার আগে বা হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ও মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়তে পারে। মাইগ্রেনে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে তীব্র আলো অনেক সময় মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় সঠিক সানগ্লাস ব্যবহার চোখের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে যেকোনো সানগ্লাস ব্যবহার করলেই কাঙ্ক্ষিত আরাম পাওয়া যায় না। লেন্সের ধরন, রঙ এবং ফ্রেমের আকার বাছাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোতে সংবেদনশীলতা থাকা মাইগ্রেন রোগীদের জন্য পোলারাইজড লেন্স, বড় ফ্রেম ও র‍্যাপ-অ্যারাউন্ড স্টাইলের সানগ্লাস তুলনামূলকভাবে উপকারী হতে পারে। বাদামি, ধূসর বা সবুজ লেন্সও তীব্র আলোয় চোখের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

পোলারাইজড লেন্স কেন উপকারী?

মাইগ্রেনে আক্রান্ত অনেকের চোখ তীব্র আলোতে বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। শুধু সরাসরি সূর্যের আলো নয়, পানি, গাড়ির কাচ কিংবা ধাতব পৃষ্ঠে প্রতিফলিত আলো থেকেও অস্বস্তি ও মাথাব্যথা বাড়তে পারে।

পোলারাইজড লেন্স প্রতিফলিত আলো বা গ্লেয়ার কমাতে সাহায্য করে। এতে চোখের ওপর চাপ ও ঝলকানি কমে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।

তবে সানগ্লাস কেনার সময় শুধু লেন্সের রঙ বা পোলারাইজড কি না, তা দেখলেই হবে না। সেটি UVA ও UVB রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি। শুধু গাঢ় রঙের লেন্স হলেই চোখ নিরাপদ থাকবে, এমন নয়।

বড় ফ্রেমে কমতে পারে পাশের আলো

মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে সামনে থেকে আসা তীব্র আলোর পাশাপাশি পাশের আলোও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ছোট ফ্রেমের বদলে বড় লেন্সের সানগ্লাস বেছে নেওয়া ভালো।

র‍্যাপ-অ্যারাউন্ড ধরনের ফ্রেম চোখের চারপাশের বড় অংশ ঢেকে রাখে। ফলে পাশ দিয়ে আলো প্রবেশের সুযোগ কমে যায়। তবে ফ্রেম খুব টাইট বা খুব ঢিলেঢালা হওয়া উচিত নয়। মুখে স্বস্তিদায়কভাবে বসে এবং পাশ দিয়ে অতিরিক্ত আলো ঢুকতে দেয় না, এমন ফ্রেম বেছে নেওয়া ভালো।

লেন্সের রঙেও নজর রাখুন

সব রঙের লেন্স চোখে একই ধরনের আরাম দেয় না। বাদামি লেন্স গ্লেয়ার কমানোর পাশাপাশি কনট্রাস্ট বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ধূসর ও সবুজ লেন্সও তীব্র আলোয় চোখকে তুলনামূলক আরাম দিতে পারে।

এ ছাড়া FL-41 লেন্স নামে বিশেষ ধরনের লেন্স রয়েছে, যা নির্দিষ্ট নীল-সবুজ আলোর তরঙ্গ ফিল্টার করার জন্য তৈরি। আলোতে সংবেদনশীলতার কারণে যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়ে, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের লেন্সও বিবেচনা করা যেতে পারে।

খুব গাঢ় লেন্স হলেই কি ভালো?

সানগ্লাস যত গাঢ়, তত ভালো, এমন ধারণা ঠিক নয়। লেন্সের রঙের চেয়ে সেটি মানসম্মত এবং পর্যাপ্ত UV সুরক্ষা দিচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত গাঢ় লেন্স আলো ও অন্ধকারের পরিবর্তনের সময় কারও কারও অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

মাথাব্যথা শুরু হওয়ার পর সানগ্লাস পরার বদলে বাইরে বের হওয়ার আগেই চোখকে তীব্র আলো থেকে সুরক্ষিত রাখা ভালো। মেঘলা দিনেও অতিবেগুনি রশ্মি পুরোপুরি বন্ধ থাকে না। তাই আলোতে সংবেদনশীলতা থাকলে এমন দিনেও সানগ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে।

সানগ্লাসের পাশাপাশি চওড়া কিনারার টুপি ব্যবহার করলেও চোখে সরাসরি ও পাশ থেকে আসা আলো কমানো সম্ভব।

ঘরের ভেতরও আলো সামলাতে হবে

মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে শুধু বাইরের রোদ নয়, ঘরের তীব্র আলোও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঘরের আলো কমিয়ে রাখা, জানালায় পর্দা ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত ঝলমলে আলো এড়িয়ে চলা যেতে পারে।

মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভির উজ্জ্বলতা সহনীয় মাত্রায় রাখা এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের মাঝে বিরতি নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

তবে ঘরের ভেতর সারাক্ষণ সানগ্লাস পরে থাকাও ভালো অভ্যাস নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আলোর উৎস নিয়ন্ত্রণ করাই বেশি কার্যকর

নিজের ট্রিগার বুঝে নিন

মাইগ্রেনের ট্রিগার সবার ক্ষেত্রে এক নয়। কারও সমস্যা বাড়ে তীব্র রোদে, কারও ক্ষেত্রে প্রতিফলিত আলোতে। আবার কারও ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

তাই কোন পরিস্থিতিতে নিজের মাইগ্রেন বাড়ে, তা খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সানগ্লাস আলোজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে এটি মাইগ্রেনের চিকিৎসার বিকল্প নয়। মাথাব্যথা ঘন ঘন হলে, আগের তুলনায় তীব্র হয়ে উঠলে বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা তৈরি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Social Icons