ভালোবাসার অন্যতম প্রতীক আইফেল টাওয়ার। জীবনে অন্তত একবার প্রিয় মানুষকে নিয়ে প্যারিসের এই বিখ্যাত স্থাপনার সামনে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। তবে মজার বিষয় হলো, আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা সারা বছর এক থাকে না। গরমে এটি সামান্য লম্বা হয়, আবার শীতে কিছুটা খাটো হয়ে যায়।
১৮৮৯ সালে উদ্বোধনের সময় আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা ছিল ৩১২ মিটার। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে রেডিও ও টেলিভিশনের অ্যান্টেনা যুক্ত হওয়ায় এর উচ্চতা বেড়েছে। ২০২২ সালে নতুন অ্যান্টেনা যুক্ত হওয়ার পর টাওয়ারটির বর্তমান উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ৩৩০ মিটার।
তবে ৩৩০ মিটার উচ্চতার বাইরেও প্রকৃতির আরেকটি বিষয় এর আকারে সামান্য পরিবর্তন ঘটায়।
গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বাড়লে টাওয়ারের লোহার কাঠামো উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয়। ফলে এর উচ্চতা সামান্য বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, গরমের সময়ে আইফেল টাওয়ার দেখতে যাওয়া পর্যটকরা শীতের তুলনায় সামান্য বেশি ‘লম্বা’ টাওয়ার দেখতে পারেন।
তবে এই পরিবর্তন এতটাই সামান্য যে খালি চোখে তা বোঝা যায় না। নির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করলেই এর পার্থক্য ধরা পড়ে।
শীত এলে আবার পরিস্থিতি বদলে যায়। তাপমাত্রা কমে গেলে লোহার কাঠামো কিছুটা সংকুচিত হয়। ফলে টাওয়ারটির উচ্চতাও সামান্য কমে যায়। অর্থাৎ, গরমে এটি একটু ‘লম্বা’ এবং শীতে আবার একটু ‘খাটো’।
কেন এমন হয়?
লোহার মতো ধাতু তাপমাত্রা বাড়লে প্রসারিত এবং তাপমাত্রা কমলে সংকুচিত হয়। আইফেল টাওয়ারের বিশাল লোহার কাঠামোর ক্ষেত্রেও একই বৈজ্ঞানিক নিয়ম কাজ করে।
পরিবর্তন সামান্য হলেও এত বড় একটি স্থাপনার ক্ষেত্রে তা পরিমাপ করা সম্ভব। তাই আইফেল টাওয়ার শুধু ভালোবাসা, সৌন্দর্য ও স্থাপত্যের প্রতীক নয়, এটি পদার্থবিজ্ঞানেরও একটি চমৎকার উদাহরণ।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে প্যারিসের এই বিখ্যাত স্থাপনাটিও যেন নীরবে নিজের আকারে সামান্য পরিবর্তন আনে।
সূত্র: আইফেল টাওয়ারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
