রাতে বিছানায় যাওয়ার পরও ঘুম না আসা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা চিন্তার কারণে ঘুম দূরে সরে যাওয়ার সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। ঘুমের অভ্যাস ঠিক করার পাশাপাশি রাতে ক্যামোমাইল চা পান করা যেতে পারে। এই উষ্ণ পানীয় শরীর ও মনকে কিছুটা শিথিল করতে সহায়তা করতে পারে।
তবে শুধু এক কাপ ক্যামোমাইল চা খেলেই অনিদ্রা দূর হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকলে এর কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
কেন উপকারী ক্যামোমাইল চা?
ক্যামোমাইল চায়ে থাকা কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরকে শিথিল করতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। রাতে উষ্ণ এই পানীয় পান করলে অনেকের আরাম বোধ হতে পারে। উদ্বেগ ও হজমের অস্বস্তি কমাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।
ঘুমের আগে কখন খাবেন?
ঘুমানোর প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে এক কাপ ক্যামোমাইল চা পান করা যেতে পারে। তবে রাতে অতিরিক্ত তরল পান করলে বারবার প্রস্রাবের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
কীভাবে বানাবেন?
ক্যামোমাইল চা তৈরিতে ফুটন্ত পানিতে দীর্ঘক্ষণ চা ফুটিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। গরম পানিতে ক্যামোমাইল চা বা শুকনো ফুল দিয়ে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখলেই তৈরি হয়ে যায়। এরপর ছেঁকে নিয়ে পান করা যায়।
ঘুম ভালো করতে যা করবেন
- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
- ঘুমানোর আগে মোবাইল ও ল্যাপটপের ব্যবহার কমিয়ে দিন।
- রাতে অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।
- ঘুমের ঘর শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন।
- দিনের বেলা নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করুন।
- রাতে ভারী খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে যাবেন না।
- ঘুম না এলে বিছানায় শুয়ে মোবাইল দেখা বা কাজ করার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
কাদের সতর্ক থাকা উচিত?
ক্যামোমাইল বা একই পরিবারের ফুলে অ্যালার্জি থাকলে এটি এড়িয়ে চলা উচিত। নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে ক্যামোমাইল চা পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
এ ছাড়া গর্ভাবস্থা বা অন্য কোনো বিশেষ শারীরিক অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ক্যামোমাইল চা পান না করাই ভালো।
দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থাকলে শুধু ক্যামোমাইল চায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তাই ঘুম না এলে শুধু ওষুধের দিকে না ছুটে রাতের অভ্যাসেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। ঘুমের আগে এক কাপ ক্যামোমাইল চা হতে পারে আরামদায়ক রাতের রুটিনের একটি অংশ। তবে দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রার ক্ষেত্রে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



