ঢাকার আশুলিয়ায় আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দম্পতির মরদেহ ও ৫ মাস বয়সী মৃত ভ্রূণ উদ্ধারের ঘটনায় মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় (৪৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবনের দোতলার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (৪২), তার স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৩) এবং ৫ মাসের মৃত ভ্রূণ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম পরদিন আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে যাওয়ার পর উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন। পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে নিহত নাজমার মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডপার্স উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলা হয়, নাজমার সঙ্গে মনিরুজ্জামানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর নাজমার স্বামী আলমগীরের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের বিরোধ তৈরি হয়।
ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর মনিরুজ্জামানকে বাসায় ডাকেন। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আলমগীর ও নাজমা মনিরুজ্জামানকে মারধর করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মনিরুজ্জামান প্রতিরোধ করতে গিয়ে নাজমার পেটে লাথি মারেন। এতে নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর আলমগীর ও মনিরুজ্জামানের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। মনিরুজ্জামান আলমগীরের মাথা ও শরীরে কয়েকটি আঘাত করেন। আলমগীর দুর্বল হয়ে পড়লে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মনিরুজ্জামান দম্পতির মরদেহ ও মৃত ভ্রূণ খাটের ওপর রেখে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ সময় তিনি নাজমার মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডপার্স নিয়ে যান।
পিবিআই পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলছে।
