GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / রুমিন ফারহানার বক্তব্যে একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট

জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যে একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এর আগেও সংসদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন রুমিন ফারহানা।

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় রুমিন ফারহানা দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছাবে। তার বক্তব্যের দুটি বিষয়কে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট।

প্রথমত, ২০০১ সালে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাফ্যাক্ট বলেছে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) করাপশন পারসেপশন ইনডেক্সে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল।

বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালের সূচকটি আগের তিন বছর, অর্থাৎ ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। ওই সময়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ০.৪। পরে ২০০৫ সালে তা বেড়ে ১.৭ এবং পরবর্তীতে ২.০ হয়।

বাংলাফ্যাক্ট আরও উল্লেখ করেছে, বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৪ সালে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করা হয়।

দ্বিতীয়ত, খেলাপি ঋণ নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের বিষয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে যে উচ্চ খেলাপি ঋণ দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের নীতিগত অব্যবস্থাপনা রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ নীতিগত ছাড়, পুনঃতফসিল ও হিসাবগত কারসাজির মাধ্যমে দীর্ঘদিন বিপুল পরিমাণ মন্দ ও বেনামি ঋণকে নিয়মিত ঋণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা ও স্বাধীন নিরীক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, জালিয়াতি এবং গোপন রাখা খেলাপি ঋণের চিত্র সামনে আসে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এগুলো কোনো নতুন সরকারের তৈরি খেলাপি ঋণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের অনিয়মের পর্দা উন্মোচন।

আগের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন

বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, সংসদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রুমিন ফারহানার ক্ষেত্রে এবারই প্রথম নয়।

এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম ছয় মাসে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়েছে

তবে বাংলাফ্যাক্টের আগের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ওই তথ্যও সঠিক ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কারখানা বন্ধ ও চাকরি হারানোর ঘটনাগুলো ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের সময়ের, আর সে সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানার সংখ্যা ছিল ৯৫টি, ৯ শতাধিক নয়।

বাংলাফ্যাক্ট হলো প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্ট চেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।

Social Icons