ব্যস্ততার কারণে কয়েক ঘণ্টা পানি না খেয়ে থাকা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু শরীরে পানির ঘাটতি বা পানিশূন্যতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর পানিশূন্যতা হলে কিডনির ওপরও চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেশি তরল বেরিয়ে যাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
অফিসে দীর্ঘ সময় কাজ, বৈঠকে ব্যস্ততা কিংবা পানি খাওয়ার কথা ভুলে যাওয়ার কারণে অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন। আবার কেউ কেউ পানির পরিবর্তে অতিরিক্ত চা বা কফির ওপর নির্ভর করেন। এসব কারণে শরীরে তরলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
পানিশূন্যতার সাধারণ লক্ষণ
শরীরে পানির ঘাটতি হলে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
১. প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া
২. মাথাব্যথা
৩. মুখ শুকিয়ে যাওয়া
৪. অতিরিক্ত ক্লান্তি
৫. মাথা ঘোরা
৬. মনোযোগ কমে যাওয়া
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে পানিশূন্যতা হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কিডনির জন্য পানি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কিডনি শরীরের রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে বের করার পাশাপাশি শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শরীরে পানির ঘাটতি বেশি হলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। আর পানিশূন্যতা যদি গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে কিডনিতে আকস্মিক ক্ষতি বা অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
যারা দীর্ঘ সময় অফিসে বা কর্মস্থলে থাকেন, কাজের ফাঁকে পানি খাওয়ার কথা ভুলে যান, নিয়মিত ব্যায়াম করেন, ভ্রমণ করেন অথবা গরম পরিবেশে কাজ করেন, তাদের পর্যাপ্ত পানি পানের বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেশি তরল বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকিও বাড়ে।
তবে অতিরিক্ত পানি পান করাও ঠিক নয়
শরীরে পানির ঘাটতি যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পান করাও সমস্যার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত পানি শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
তাই তৃষ্ণা, শারীরিক পরিশ্রম ও পরিবেশের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনির সমস্যা থাকলে বিশেষ সতর্কতা
আগে থেকেই কিডনির সমস্যা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে সবার পানির প্রয়োজন এক রকম নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের মতো করে বেশি বা কম পানি পান না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল গ্রহণ করা উচিত।
অর্থাৎ, ব্যস্ততার কারণে পানি খাওয়ার বিষয়টি বারবার উপেক্ষা করা ঠিক নয়। শরীরে পর্যাপ্ত তরল বজায় রাখা স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে পানির পরিমাণ নিয়েও অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি না করে নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাই ভালো।








