GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ছাগলকাণ্ডের পেছনে প্রতিশোধ ছিল না দাবি আসিফ নজরুলের, বললেন পুরো ঘটনা

ছাগলকাণ্ডের পেছনে প্রতিশোধ ছিল না দাবি আসিফ নজরুলের, বললেন পুরো ঘটনা

ছাগলকাণ্ডের পেছনে প্রতিশোধ ছিল না দাবি আসিফ নজরুলের, বললেন পুরো ঘটনা

ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনাকে নিজের জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। দীর্ঘদিন পর ওই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলে তিনি জানিয়েছেন, ছাগলটির সঙ্গে তার মেয়ের গভীর সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনাটির পর শিশুটি ভয়াবহ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অতিথি হয়ে এসব কথা বলেন আসিফ নজরুল।

ছাগলকাণ্ড নিয়ে যা বললেন

ছাগল চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন করেন। জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ঘটনাটি তিনি আসলে বলতে চান না। কারণ এটি তার জীবনে ঘটে যাওয়া অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা।

তিনি বলেন, যারা এটিকে প্রতিশোধ হিসেবে করেছে বলে দাবি করে, তারা ভুল করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি মজা করেই করা হয়েছিল।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘এটা বাচ্চার পালা ছাগল ছিল।’ তখন তার মেয়ের বয়স ছিল সাড়ে ৯ বছর। মেয়েটি ফুল রোড থেকে হেয়ার রোডে চলে যাওয়ার পর সেখানে তার কোনো বন্ধুবান্ধব ছিল না। ফলে সে মানসিকভাবে অনেকটাই একা হয়ে পড়ে।

মেয়ের জন্য ছাগলটি কেনা হয়েছিল

আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের বাসায় মেয়েটি একা থাকত। তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যই তারা একটি ছাগল কিনে দিয়েছিলেন।

ছাগলটির সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ছাগলটি প্রতিদিন অপেক্ষা করত কখন তার মেয়ে স্কুলে যাবে। স্কুল থেকে ফিরে এলে মেয়েটি ছাগলটির সঙ্গে খেলত।

এমনকি মেয়ের ফোনেও ছাগলটির বিশেষ জায়গা ছিল। আসিফ নজরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, মায়ের ছবির পরিবর্তে মেয়ের ফোনে ছাগলটিকে গলা জড়িয়ে ধরা একটি ছবি রাখা ছিল।

ঘটনার পর মেয়ের ভয়াবহ মানসিক অবস্থা

ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার পর তার মেয়ের মানসিক পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায় বলে জানান আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দিচ্ছিল এবং প্রায় দেড় দিন কিছু খেতে পারেনি। সে এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল যে বিষয়টি পরিবারের জন্যও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে।

তবে তার মেয়ে এখনো জানে না যে ছাগলটিকে চুরি করে খেয়ে ফেলা হয়েছিল।

মেয়েকে কী বলা হয়েছিল

মেয়েটি যেন আরও ভেঙে না পড়ে, সেজন্য পরিবার তাকে জানিয়েছিল, দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে।

আসিফ নজরুল বলেন, মেয়েটি যদি জানতে পারে ছাগলটিকে খেয়ে ফেলা হয়েছে, তাহলে সে প্রচণ্ডভাবে ভেঙে পড়বে। তাই বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।

ছাগল কাটার ঘটনাও তুলে ধরলেন

আসিফ নজরুল দাবি করেন, ছাগলটিকে কীভাবে কাটা হয়েছিল, সেই ঘটনাটিও অত্যন্ত নির্মম।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে একটি বঁটি দিয়ে ছাগলটি কাটার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু অর্ধেক কাটার পরও সেটি পুরোপুরি কাটা সম্ভব হয়নি। পরে কাওরান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে ছাগলটি কাটা হয় বলে তিনি শুনেছেন।

তিনি বলেন, এতদিন তিনি কাউকে এসব কথা বলেননি। কিন্তু অনুষ্ঠানে বিষয়টি ওঠায় তিনি ঘটনাটির কিছু দিক তুলে ধরেছেন।

ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বিরোধের দাবি নাকচ

ছাগলকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তার বিরোধের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, এমন প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে।

আসিফ নজরুল বলেন, ছাত্রদের মধ্যে যারা ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে নাহিদ, আসিফ ও আখতারের সঙ্গে তার সবসময়ই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বাইরে থেকে যারা আসতেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ তুলনামূলক কম ছিল বলে তিনি জানান।

তিনি দাবি করেন, শেষ দিন পর্যন্ত নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনের সঙ্গে তার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

সবশেষে ছাগল চুরির ঘটনাটিকে আবারও অত্যন্ত কষ্টদায়ক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন আসিফ নজরুল। তার বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে আসে ছোট মেয়ের সঙ্গে পোষা ছাগলটির আবেগের সম্পর্ক এবং ঘটনার পর শিশুটির মানসিক কষ্টের বিষয়টি।

Social Icons