GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি মেট্রোরেল, ব্যয় সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা

গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি মেট্রোরেল, ব্যয় সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা

গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি মেট্রোরেল, ব্যয় সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা

ঢাকার যানজট নিরসন ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ ব্যবস্থা জোরদারে মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উঠছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা

অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার টাকা সংস্থানের কথা রয়েছে।

নতুন মেয়াদ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যে রুটে চলবে মেট্রোরেল

মেট্রোরেল লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুটটি রাজধানীর গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

রুটে থাকবে গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার ও আফতাব নগর পূর্ব। এরপর নাসিরাবাদ হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত যাবে এই রুট।

প্রকল্পে যেসব কাজ হবে

প্রকল্পের আওতায় মেইন লাইনের সিভিল নির্মাণকাজ ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ব্যবস্থা স্থাপন, আধুনিক রেলওয়ে সিস্টেম চালু, রোলিং স্টক ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হবে।

এ ছাড়া কনসালটেন্সি সার্ভিস, জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীতে এমআরটি লাইন-৬ আংশিকভাবে চালু রয়েছে। পাশাপাশি এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দান রুটের কাজ চলমান রয়েছে।

সাউদার্ন রুট চালু হলে এটি লাইন-৫ নর্দান রুট ও লাইন-১-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা এক লাইন থেকে অন্য লাইনে সহজে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

প্রস্তাবিত ব্যয় কমেছে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির ব্যয় কয়েক দফা পর্যালোচনার পর পুনর্গঠন করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা

পরবর্তীতে ২০২৫ থেকে ২০৩১ মেয়াদে ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সবশেষ ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ পর্যালোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় পুনর্গঠন করা হয়। এতে মূল প্রস্তাবের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ১৪১ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় কমেছে। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ অংশেই দুই হাজার ২৪ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় হয়েছে।

যানজট নিরসনে মেট্রোরেলের নতুন রুট

ঢাকার তীব্র যানজট নিরসন এবং একটি সুসংহত গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটির প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বেসিক ও ডিটেইল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, টেন্ডার সহায়তা এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

এসব প্রস্তুতির ভিত্তিতে প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করেছে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ।

Social Icons