চাকরির ভাইভা বা ইন্টারভিউ শুধু নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ নয়, একই সঙ্গে পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ সময়। অনেক প্রস্তুতি নেওয়ার পরও কিছু সাধারণ ভুলের কারণে প্রার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে। তাই ভাইভা দিতে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত।
দেরি করে পৌঁছানো
ইন্টারভিউতে নির্ধারিত সময়ের পরে পৌঁছানো আপনার দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করুন।
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে না জেনে যাওয়া
যে প্রতিষ্ঠান এবং যে পদের জন্য আবেদন করেছেন, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা না নিয়ে ভাইভায় যাওয়া ঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানের কাজ, পদটির দায়িত্ব এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নিন।
অনুপযুক্ত পোশাক পরা
খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ কিংবা অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল পোশাক এড়িয়ে চলুন। প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই, পরিপাটি ও পেশাদার পোশাক বেছে নেওয়া ভালো।
আগের প্রতিষ্ঠান বা বসকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলা
আগের কর্মস্থল, বস বা সহকর্মীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। এমন মন্তব্য আপনার পেশাদারিত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
মিথ্যা তথ্য দেওয়া
নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা নিয়ে কোনো মিথ্যা কিংবা অতিরঞ্জিত তথ্য দেওয়া উচিত নয়। ভাইভায় নিজের প্রকৃত যোগ্যতাই তুলে ধরুন।
ইন্টারভিউয়ারের কথার মাঝে বাধা দেওয়া
ইন্টারভিউয়ার প্রশ্ন করার সময় তার কথা শেষ হওয়ার আগে উত্তর দেওয়া বা মাঝখানে কথা কেটে দেওয়া এড়িয়ে চলুন। প্রশ্নটি ভালোভাবে শুনে তারপর উত্তর দিন।
অতিরিক্ত বা এলোমেলো কথা বলা
কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ কথা বলা ঠিক নয়। নিজের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার ও প্রশ্নের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক রাখুন।
চোখের যোগাযোগ না রাখা
কথা বলার সময় সবসময় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকা বা চোখ এড়িয়ে চলা আপনার আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। স্বাভাবিকভাবে ইন্টারভিউয়ারের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন।
মোবাইল ফোন খোলা রাখা
ভাইভা কক্ষে প্রবেশের আগে মোবাইল ফোন সাইলেন্ট বা বন্ধ করে রাখুন। ফোনের রিংটোন কিংবা ভাইব্রেশন যাতে ইন্টারভিউয়ের সময় বিরক্তির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
শুরুতেই বেতন নিয়ে প্রশ্ন করা
ইন্টারভিউয়ের একেবারে শুরুতেই বেতন নিয়ে প্রশ্ন না করাই ভালো। সাধারণত ইন্টারভিউয়ের শেষ দিকে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকে। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারাই এ বিষয়ে তথ্য দেন।
কোনো প্রশ্ন না করে বেরিয়ে যাওয়া
ইন্টারভিউয়ের শেষে অনেক সময় প্রার্থীকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার কোনো প্রশ্ন আছে কি না। তখন একেবারে কিছু না বলে না থেকে প্রতিষ্ঠান, কাজের পরিবেশ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করতে পারেন।
শেষে সৌজন্য বজায় না রাখা
ইন্টারভিউ শেষ হলে ইন্টারভিউয়ারদের তাদের সময়ের জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করার আগ্রহ থাকলে তা সংক্ষেপে প্রকাশ করতে পারেন। কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় বা অনলাইন মিটিং শেষ করার সময়ও ভদ্র ও ইতিবাচক আচরণ বজায় রাখুন।
ভাইভায় ভালো করতে শুধু প্রশ্নের উত্তর জানাই যথেষ্ট নয়। সময়ানুবর্তিতা, পোশাক, আচরণ, যোগাযোগের ধরন এবং পেশাদারিত্বও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগে থেকেই এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নিলে ইন্টারভিউতে নিজের যোগ্যতা আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরা সম্ভব।









