বার্সেলোনার গোল উৎসব যেন থামছেই না। চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা হানসি ফ্লিকের দল এবার রাসিং সান্তান্দারকে ৭-২ গোলে হারিয়েছে। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন রাফিনিয়া। জোড়া গোল করেছেন জোয়াও কানসেলো।
এই জয়ের মাধ্যমে লা লিগায় টানা ছয় ম্যাচ জিতল বার্সেলোনা।
শুরুতেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন জোয়াও কানসেলো। লামিন ইয়ামালের আড়াআড়ি পাস পেয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জালে পাঠান তিনি। বলটি ক্রসবার ছুঁয়ে জালে প্রবেশ করে।
এরপর পেদ্রো ফেলিপের ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া।
৩০তম মিনিটে মাগেত গুয়ে গোল করে রাসিং সান্তান্দারের ব্যবধান কমান। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও গোল করেন কানসেলো। দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে বল প্রতিপক্ষের গোলের ওপরের বাঁ কোণে পাঠিয়ে বার্সাকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
বিরতির আগেই রাফিনিয়ার দ্বিতীয় গোল
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। দানি ওলমোর চমৎকার পাস পেয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
এরপর আদেয়েমিকে ফেলে দেওয়ায় আরও একটি পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। এবার রাফিনিয়া নিজে না নিয়ে লামিন ইয়ামালকে সুযোগ দেন। তবে গোলকিপার আগিরেজাবালা ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের ধারা
বিরতির পর বিকল্প হিসেবে মাঠে নামা ভয়চেখ শেজনির ভুলের সুযোগ নিয়ে ইয়াসির জাবিরি রাসিং সান্তান্দারের হয়ে গোল করেন।
তবে মাত্র দুই মিনিট পরই আবার পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। আদেয়েমিকে ফাউল করায় পাওয়া সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রাফিনিয়া।
এরপর গ্যাব্রিয়েল জেসুস ওপরের ডান কোণে শট নিয়ে বার্সেলোনার হয়ে আরও একটি গোল করেন। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে আদেয়েমির পাস থেকে ফার্স্ট-টাইম শটে গোল করে ৭-২ ব্যবধান নিশ্চিত করেন লামিন ইয়ামাল।
লা লিগায় টানা ছয় জয়
এই জয়ের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে লা লিগায় টানা ছয়টি জয় পেল বার্সেলোনা। এই শতাব্দীতে ষষ্ঠবারের মতো প্রথম ছয় ম্যাচ জিতে মৌসুম শুরু করল ক্লাবটি।
আগের পাঁচবারের মধ্যে চারবারই মৌসুম শেষে লা লিগার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বার্সেলোনা।
রাফিনিয়া-ইয়ামালের দুর্দান্ত ছন্দ
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত লা লিগায় ২৮ গোল করেছে বার্সেলোনা, যা এই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে তারা ১১ গোল এগিয়ে।
এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন রাফিনিয়া। ফ্লিকের অধীনে ফলস নাইন হিসেবে খেলে ছয় ম্যাচে ৯ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
অন্যদিকে লামিন ইয়ামালও গড়েছেন ব্যক্তিগত মাইলফলক। ক্যারিয়ারে প্রথমবার টানা চারটি লা লিগা ম্যাচে গোল করলেন স্প্যানিশ তারকা। চলতি মৌসুমে তার মোট গোল এখন ৭টি।
কানসেলোর দুটি দূরপাল্লার গোলও ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। এই দুই গোলের সম্মিলিত এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল মাত্র ০.০৪৭, যা গোল দুটির কঠিনতা তুলে ধরে। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনার xG ছিল ৬.৬৫, আর রাসিং সান্তান্দারের ১.৮৬।







