যশোরের অভয়নগরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর রত্না বেগম (৩৬) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অপারেশনকারী চিকিৎসক। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সাময়িকভাবে সিলগালা করেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা সরকারি হাসপাতাল সড়কের ওই বেসরকারি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে হাসপাতালটির ওটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়।
অপারেশনের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি
নিহত রত্না বেগম যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব মোল্যার মেয়ে এবং বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের নাজমুল হোসেনের স্ত্রী।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসবব্যথা ওঠায় শুক্রবার রাতে রত্না বেগমকে ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক মঞ্জুর মোর্শেদের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
অপারেশনের পর নবজাতক সুস্থ থাকলেও রত্না বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শনিবার ভোরে তার পেট ফুলে যায় এবং খিঁচুনি ওঠে। একপর্যায়ে তিনি মারা যান।
নিহতের বড় বোন রুনা বেগম বলেন, অপারেশনের পর শিশুটি সুস্থ ছিল। তবে তার বোন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভোরে পেট ফুলে যাওয়ার পর খিঁচুনি ওঠে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান। ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই মৃত্যু হয়েছে দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
চিকিৎসকের বক্তব্য
তবে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক মঞ্জুর মোর্শেদ। তিনি বলেন, অপারেশন ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর তিনি বাড়ি চলে যান। পরে কী হয়েছিল, তা তাকে জানানো হয়নি। সকালে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।
চিকিৎসকের ধারণা, অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক হয়ে রত্না বেগমের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
সাময়িক সিলগালা হাসপাতালের ওটি
প্রসূতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ৯৯৯ থেকে ফোন পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালটি পরিদর্শন করে। এ সময় অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু বলেন, নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হয়। এ সময় সেটআপে ত্রুটি ও বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ধাপে ধাপে উপজেলার অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও অভিযান চালানো হবে।
