জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে মার্কিন চাপ ও হুমকির কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ও উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকি যত বাড়বে, ইরানের জনগণের প্রতিরোধও তত বাড়বে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরান শক্তি প্রয়োগের ভাষা গ্রহণ করবে না, তবে সংলাপ ও আলোচনার পথ খোলা রাখবে।
ট্রাম্পের হুমকির জবাব
এর একদিন আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, শান্তি চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দিতে পারে। পেজেশকিয়ান ট্রাম্পের ওই বক্তব্যকে ‘দাদাগিরির মানসিকতার’ প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকি ইরানের অবস্থানকে দুর্বল করবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না, তবে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
আলোচনার জন্য ইরানের শর্ত
পেজেশকিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে অবরোধ প্রত্যাহার তার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হতে হবে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অন্য দেশগুলো হরমুজ প্রণালির সুবিধা পাবে, অথচ ইরানের জাহাজ চলাচলে বাধা থাকবে, এমন ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অধিকার ছাড়বে না ইরান
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান তার শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অধিকার ছাড়বে না। তবে তিনি দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।
তার বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার এবং পরমাণু অস্ত্র না তৈরির অবস্থান দুটোই তুলে ধরা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ভাষণের সময় পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহতদের ছবি প্রদর্শন করেন। তিনি ইরানকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী করার মার্কিন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।
পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করার বদলে দেশটি নিজেই সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে। তার এই বক্তব্যে চলমান সংঘাত নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ যুদ্ধের অবসানের উপায় নিয়ে এখনও উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্যে রয়েছে। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ছাড়ার মতো বিষয়গুলো আলোচনার শর্ত হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।









