GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / Uncategorized / চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় BMW ও হাফ-কাট ট্রাক উদ্ধারের দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় BMW ও হাফ-কাট ট্রাক উদ্ধারের দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আনা একটি কন্টেইনারে মিলেছে বিলাসবহুল BMW গাড়ি ও পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক। কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে কন্টেইনারে থাকা পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় একটি BMW স্পোর্টস বা রেসিং কার, আরেকটি BMW সেডানের সামনের অংশ এবং ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক পাওয়া যায়।

চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি’ থেকে চালানটি আমদানি করে। পণ্য খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড’।

কাস্টমস নথিতে চালানটিতে ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে কন্টেইনার খোলার পর বাস্তবে পাওয়া পণ্যের সঙ্গে ঘোষণার বড় পার্থক্য পাওয়া যায়।

পরীক্ষার সময় কন্টেইনার থেকে ২০০৯ মডেলের দুই আসনের একটি BMW S-Drive 23i স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটি সম্পূর্ণ সিকেডি বা Completely Knocked Down অবস্থায় ছিল। এর ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণ ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ঘোষণা দেওয়া হলেও সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় একটি গাড়ি পাওয়ায় চালানটির ঘোষণার সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য নেই।

একই কন্টেইনারে ২০১৬ সালের BMW 740i মডেলের একটি প্রিমিয়াম সেডানের সামনের অর্ধাংশও পাওয়া গেছে। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি।

একটি বিলাসবহুল গাড়ির শুধু সামনের অংশ কীভাবে এই চালানে এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে গোপনে খালাস করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া কন্টেইনারে ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক পাওয়া গেছে। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতর বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ কৌশলে রাখা হয়েছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারণা, গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে আলাদা চালানে আমদানির একটি চক্র থাকতে পারে। পরে দেশে এনে এসব অংশ পুনরায় সংযোজন করা হতে পারে। এভাবে প্রকৃত পণ্য ও মূল্য গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া সব পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে BMW গাড়ি ও অন্যান্য গাড়ির অংশের ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

পণ্যগুলোর প্রকৃত শুল্ক মূল্যও নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস আইন ২০২৩ এবং প্রচলিত আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পাশাপাশি BMW গাড়িটির বাকি অংশ কোথায় রয়েছে, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে গাড়ি বা গাড়ির অংশ আমদানির সম্ভাব্য চক্র শনাক্ত ও ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Social Icons